• আরজি করের ঘটনার পুনর্তদন্তের ঘোষণা, নির্যাতিতার দাহকার্যে অনিয়মে নয়া FIR-এর নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর
    এই সময় | ১০ আগস্ট ২০২৬
  • আরজি কর কাণ্ডের পুনর্তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি, ঘটনার দিন নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে নির্যাতিতার দাহকার্য প্রক্রিয়াও বেআইনি ছিল, সেই ঘটনার পৃথক তদন্ত হবে। রবিবার আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসকের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণসভায় উপস্থিত হয়ে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

    অভয়া দেবনাথ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের উদ্যোগে আয়োজিত এ দিনের স্মরণসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্যাতিতার মা আমায় পুনর্তদন্তের আর্জি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যসচিব ও বিশেষজ্ঞ দলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরে ১৯৫২ সালের বিশেষ কমিশন আইনের আওতায় পুনর্তদন্তের ঘোষণা করছি।’ এর পাশাপাশি নির্যাতিতার দেহ দাহ করার বিষয়টি নিয়ম মেনে হয়নি এবং পরিবারকে অন্ধকারে রেখে তড়িঘড়ি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন শুভেন্দু।

    ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট রাতে ঘোলা থানার অন্তর্গত নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে নির্যাতিতার দাহকার্য সম্পন্ন করা হয়। শুভেন্দুর অভিযোগ, শশ্মান ঘাটে তিন নম্বরে নির্যাতিতার দেহ দাহকার্য করার কথা থাকলেও তড়িঘড়ি এক নম্বরে এনে দাহ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্মল ঘোষ (তৎকালীন পানিহাটির বিধায়ক), সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় মিলে এই পুরো কাণ্ডটি ঘটিয়েছেন।’ এ দিনের স্মরণসভার মঞ্চ থেকেই ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারকে মঞ্চ থেকেই অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দেন শুভেন্দু।

    এ দিন বক্তৃতার মাঝে সম্প্রতি বারুইপুরে ঘটে যাওয়া নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার কথাও মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বারুইপুরে পুলিশ যেটা মনে করেছে, সেটা করেছে।’ রাজ্যে এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটলে ধর্ম-বর্ণ না দেখে শাস্তি হবে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। আরজি করের ঘটনার বিচারের জন্য যতদূর যেতে হয়, নতুন সরকার যাবে বলেও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা অভয়া বোনকে ভুলিনি! রাজ্যবাসী আমাদের জয়ীই করেছেন তাঁর ন্যায়বিচার ছিনিয়ে আনার জন্য। প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার মধ্যে দাঁড়িয়েও আমি আবার বলছি— আমি কমিটেড, আমি কমিটেড, আমি কমিটেড। বোনের বিচারের জন্য আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব।’

    উল্লেখ্য, আদালতের নির্দেশে আরজি করের ঘটনার মূলত তদন্ত করছে সিবিআই। মূলত, ধর্ষণ ও খুন, ২০২৪ সালের ১৪ অগস্ট রাতে আরজি করে পরিকল্পিত ভাঙচুর এবং হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। এর পাশাপাশি গত সরকারের প্রশাসনিক যে গাফিলতি ছিল, সেইগুলি খুঁজে বের করার জন্য পৃথক তদন্ত করবে বলেই এ দিন জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছেন নির্যাতিতার মা তথা পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ। তিনি মেয়ের স্মৃতিচারণায় বলেন, ‘অপরাধীরা যতই চেষ্টা করুক, তাদের পাপের ফল তাদের পেতেই হবে।…যাঁরা আমার মেয়েকে এই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছে, দুর্ভাগ্য তাদের, আমাদের কোনও দুর্ভাগ্য নয়।’

  • Link to this news (এই সময়)