উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরে রবিবার দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে হামলার ঘটনা স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষ বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশপাশি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যাপারে পুলিশের কোনও গাফিলতি নেই বলেও দাবি করেন তিনি। অন্য দিকে, মমতাকে শুভেন্দুর কটাক্ষ, ‘এত চুরি করেছেন, চোর চোর স্লোগান তো শুনতেই হবে।’
পানিহাটিতে অভয়া দেবনাথ ট্রাস্টের আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘উনি জ়েড প্লাস ক্যাটেগরি (নিরাপত্তা) পান। আমরা সেটা উইথড্র করিনি।’ এ দিনের ঘটনাটি নিয়ে ডিরেক্টর অফ সিকিউরিটির সিনিয়র অফিসার সঙ্গে আলোচনাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি টিভি-তে যেটুকু ছবি দেখেছি, সিনিয়র পুলিশ অফিসারদের নেতৃত্বে পুলিশ তাঁকে সাপোর্ট দিয়েছে।’ পুলিশ নিরাপত্তা দিতে কোনও খামতি রাখেনি বলে দাবি তাঁর।
অন্য দিকে, এই ঘটনার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁর উপর হামলা চালিয়েছে। তাঁকে প্রাণে মারার জন্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। কিন্তু এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্টত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, জনরোষের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে। সেই কারণেই প্রাক্তন তৃণমূল নেত্রীকে চোর চোর স্লোগান শুনতে হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষ, ‘এত চুরি করেছেন, চোর তো শুনতে হবে। হেলিকপ্টারে উঠলে কানে লাগিয়ে দেয় না... (নয়েজ-ক্যানসেলিং ইয়ারফোন) ওগুলো লাগিয়ে নিন।’
উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়া পুরসভার তৃণমূলের পদত্যাগী কাউন্সিলার জেনি শর্মা কেওটের স্বামী বিরজু কেওটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কয়েকদিন আগেই। লকআপে থাকাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এ দিন দেখা করতে যান মমতা। সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘ওঁর ( মৃত তৃণমূল কর্মী) বাড়ির লোক বলছেন, তাঁরা প্রশাসনের উপর আস্থাশীল। রহস্য উন্মোচন হোক চান।…আপনাকে (মমতা) ওই বাড়ির লোক দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে। আর আপনি বলছেন, না! আমি দরজা ভেঙে ঢুকব।’ জোর করে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার জন্যেই এই ঘটনা বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।