• 'কাদা মাখাবে না তো কি, ফুল ছুড়বে?' মমতার হালিশহর হামলায় পাল্টা শুভেন্দু
    আজ তক | ১০ আগস্ট ২০২৬
  • Suvendu on Mamata: হালিশহরে মমতার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ, কাদা ছোড়ার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার পানিহাটিতে আরজি কর নির্যাতিতার স্মরণসভার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সে সময়েই এই ঘটনায় মমতাকে নিশানা করেন। তাঁর দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় পুলিশের তরফে কোনও খামতি রাখা হয়নি। বরং মমতা সেখানে গিয়ে 'জনরোষের' মুখে পড়েছেন। শুভেন্দুর দাবি, টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ছবিতে তিনি দেখেছেন, সিনিয়র এক পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী মমতাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ঘটনাস্থলে বিজেপির কোনও পরিচিত মুখ বা দলীয় পতাকা তিনি দেখতে পাননি। ফলে হালিশহরের বিক্ষোভকে সরাসরি বিজেপির কর্মসূচি বলে মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী। মমতার সফর নিয়ে তাঁর বক্তব্য, 'ছুটির দিন একজন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়েছেন, পুলিশকে না জানিয়ে।' একই সঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতাকে যে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শুভেন্দু।

    'পুলিশ সঠিকভাবেই সাপোর্ট দিয়েছে', দাবি শুভেন্দুর
    রবিবার হালিশহরের ঘটনার পর মমতা অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা কাদা ও জুতো ছুড়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।  

    এই পরিস্থিতিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা, কল্যাণ। সে প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, টিভির ফুটেজে যতটা দেখা গিয়েছে, তাতে পুলিশ মমতাকে যথাযথ নিরাপত্তা দিয়েছে।

    শুভেন্দুর কথায়, 'আমি টিভির ছবিতে যতটুকু দেখেছি, সিনিয়র পুলিশ ডিসি-র নেতৃত্বে পুলিশ টিম তাঁকে সঠিকভাবে সাপোর্ট দিয়েছে। আমি বিজেপির কোনও পরিচিত মুখও দেখিনি, ঝান্ডাও দেখিনি।'

    অর্থাৎ, হালিশহরের ঘটনার সঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক যোগ থাকার অভিযোগ কার্যত খারিজ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, ঘটনাটি রাজনৈতিক দলের পরিকল্পিত কর্মসূচি নয়, বরং স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ থেকেই পরিস্থিতি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

    ‘জনরোষের শিকার হয়েছেন’ 
    শুভেন্দুর তাঁর দাবি, হালিশহরে মমতা জনরোষের মুখে পড়েছেন।

    তিনি দাবি করেন, বীরজু কেওটের পরিবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হালিশহরে আসার বিষয়ে আগ্রহী ছিল না। শুভেন্দুর দাবি, পরিবারের সদস্যরা নাকি জানিয়েছেন, তাঁরা মমতাকে ডাকেননি এবং চাননি যে তিনি এই ঘটনায় যুক্ত হন।

    তাঁর কথায়, মমতা এক দিকে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর জন্য নির্দিষ্ট একটি অভিযোগ তুলছেন। অন্য দিকে পরিবারের বক্তব্য নাকি আলাদা। শুভেন্দুর দাবি, মৃতের পরিবারের পুলিশি তদন্তের উপর বিশ্বাস আছে।

    শুভেন্দু বলেন, 'উনি জোর করে বলতে চাইছেন, লক আপে মেরে দিয়েছে, বিজেপি মেরে দিয়েছে। আর বাড়ির লোক বলছে, পুলিশের ভূমিকায় সন্তুষ্ট। রহস্য উদঘাটন হোক, সেটাই চায় পরিবার।'

    তবে বীরজুর পরিবারের অভিযোগ এবং পুলিশের বক্তব্য নিয়ে তদন্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছে, আবার প্রশাসনের তরফে অন্য দাবি রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে কোনও পক্ষের বক্তব্যকেই তদন্তের চূড়ান্ত ফল হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

    'মমতা বিচার দিতে পারবেন না', কেন বললেন শুভেন্দু?
    হালিশহরের ঘটনা নিয়ে শুভেন্দুর বক্তব্যের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে তাঁর মন্তব্য। তিনি বলেন, বীরজুর পরিবার যদি সত্যিই ঘটনার রহস্য জানতে চায়, তা হলে তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসা উচিত।

    শুভেন্দুর দাবি, পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী পুলিশ এবং প্রশাসনের উপরই তদন্তের দায়িত্ব থাকা উচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে গিয়ে এই ঘটনার বিচার করতে পারবেন না; এমনটাই বোঝাতে চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    তাঁর বক্তব্য, 'পরিবার বলছে, পুলিশ-প্রশাসনই বিচার দিতে পারবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিচার দিতে পারবে না।'

    'পুলিশকে না জানিয়ে' 
    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হালিশহর সফর নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ছুটির দিনে পুলিশকে না জানিয়েই মমতা সেখানে গিয়েছিলেন।

    যদিও মমতার নিরাপত্তার বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতার নিরাপত্তার জন্য সরকার ব্যবস্থা করে থাকে। তাঁর বয়সের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

    শুভেন্দুর বক্তব্য, 'আমাদের নির্দেশ রয়েছে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, বয়সও হয়েছে, যতটা সম্ভব পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া ও সম্মান রাখা।'

    তাঁর দাবি, হালিশহরে মমতার জন্য যে পুলিশি ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তা যথেষ্ট ছিল। সেই কারণেই ঘটনার জন্য প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দায়ী করা ঠিক নয় বলে মনে করছেন তিনি।

    শুধু সমালোচনা নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি পরামর্শও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।

    তিনি বলেন, কোনও পরিবার সাহায্য চাইলে অবশ্যই পাশে দাঁড়ানো উচিত। কিন্তু এমন জায়গায় গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা উচিত নয়, যাতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।

    শুভেন্দুর বক্তব্য, 'আপনার কাছ থেকে যদি কেউ সাহায্য চায়, নিশ্চয়ই করুন। কিন্তু আপনি অহেতুক কোনও জায়গায় গিয়ে এমন কিছু করবেন না, যাতে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়।'

    ‘তিলোত্তমার বাড়ি যেতে পারতেন’, মমতাকে কটাক্ষ
    এর পরেই শুভেন্দু হালিশহরের ঘটনা থেকে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে তিলোত্তমার বাড়ির প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, মমতা যদি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাড়িতে বাড়িতে যান, তা হলে তিলোত্তমার বাড়িতেও যেতে পারতেন।

    শুভেন্দুর বলেন, 'একটা স্টেট হাসপাতালের ভিতরে মেরেছিলেন তিলোত্তমাকে, প্রমাণ লোপাট করতে গিয়েছিলেন, ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনতে গিয়েছিলেন, সেদিন আপনার গাড়িতে কাদা মাখাবে না কি ফুল ছুড়বে?'  
  • Link to this news (আজ তক)