• সমাবর্তনে প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণে ক্ষোভ, ‘ছাত্রসমাজের প্রতি উনি উদাসীন’, প্রতিবাদে ৪৫০ আইন পড়ুয়া
    প্রতিদিন | ১০ আগস্ট ২০২৬
  • প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হলেন সাড়ে চারশো পড়ুয়া। ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ ইউনিভার্সিটিতে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানো হয় প্রধান বিচারপতিকে। কিন্তু সাড়ে চারশোরও বেশি পড়ুয়া একটি পিটিশনে সই করে জানিয়ে দিলেন, প্রধান অতিথির নাম পুনর্বিবেচনা করা হোক।

    কেন এমন দাবি করছেন আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা? তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান বিচারপতির ‘ককরোচ’ মন্তব্য নিয়ে। যন্তর মন্তরে প্রতিবাদীদের মামলায় ভিডিও দেখা নিয়ে তিনি বলেছিলেন, এসব দেখার সময় নেই। পড়ুয়াদের মতে, ‘এই ধরণের মন্তব্য করে প্রধান বিচারপতি আমাদের প্রতি উদাসীনতা দেখিয়েছেন। তাঁকে আমাদের কলেজে আমন্ত্রণ জানানো, তাঁর হাত দিয়ে আমাদের ডিগ্রি তুলে দেওয়া-এগুলো মেনে নেওয়া যায় না। আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি যেন এই আমন্ত্রণ নিয়ে আবারও ভাবনাচিন্তা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।’

    উল্লেখ্য, সপ্তাহখানেক আগে এই একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশাল সায়েন্সেস (টিআইএসএস) কলেজে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি। কিন্তু সেই সমাবর্তন অনুষ্ঠান বাতিল করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের রেজিস্ট্রার ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি’র উল্লেখ করেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কেন অনুষ্ঠান বাতিল করা হল, তা তিনি স্পষ্ট করেননি। পরবর্তীতে একটি বিবৃতিতে টিআইএসএস জানায়, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে এবং এই আয়োজকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কায়, তা বাতিল করা হয়েছে।

    এবার আইন কলেজের সমাবর্তনেও প্রধান বিচারপতির উপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হল। পড়ুয়াদের অভিযোগ, আইন কলেজে যা মূল্য়বোধ শেখানো হয়েছে তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতকে আমন্ত্রণের বিষয়টি খাপ খায় না। শেষ পর্যন্ত সমাবর্তন নিয়ে কলেজের তরফ থেকে এখনও কিছু ঘোষণা করা হয়নি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)