মন্দির ভেঙেই দেওবন্দে দারুল উলুম! শিবলিঙ্গ পুনরুদ্ধারে এবার পথে নামছে হিন্দু রক্ষা দল
প্রতিদিন | ১০ আগস্ট ২০২৬
জ্ঞানবাপী, ভোজশালার পর এবার উত্তরপ্রদেশের দেওবন্দের দারুল উলুম ইসলামিক শিক্ষাকেন্দ্র। যার ভিতরে রয়েছে মসজিদও। হিন্দুবাদীদের দাবি, ওই মুসলিম স্থাপত্যটি মন্দির ভেঙে তৈরি হয়েছিল। ভিতরে রয়েছে শিবলিঙ্গ। হিন্দু রক্ষ দল ঘোষণা করেছে, আগামী ১১ আগস্ট মঙ্গলবার গঙ্গা জল দিয়ে শুদ্ধিকরণ ও প্রার্থনা করা হবে দারুল উলুমে।
হিন্দু রক্ষা দলের উত্তরাখণ্ডের সভাপতি ললিত শর্মা সোশাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। সেখানে তিনি ঘোষণা করেছেন, সংগঠনের জাতীয় সভাপতি পিঙ্কি চৌধুরীর নেতৃত্বে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা হরিদ্বার থেকে দেওবন্দ পর্যন্ত গঙ্গা জল নিয়ে যাত্রা করবেন। শর্মা দাবি করেছেন, দারুল উলুম চত্বরে একটি শিব মন্দির রয়েছে। এই দাবিতে এর আগে সাহারানপুর প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিল সংগঠনটি। যদিও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। সেই কারণেই এবার সংগঠনটি দারুল উলুমে গিয়ে গঙ্গার জল অর্পণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে হিন্দু রক্ষা দলের এই ঘোষণায় শঙ্কিত পুলিশ ও প্রশাসন। দেওবন্দের সার্কেল অফিসার অমিত কুমার সিং বলেছেন, কাউকে আইন-শৃঙ্খলায় ব্যাঘাত ঘটাতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “কাউকেই আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অনুমতি দেওয়া হবে না। যারা আইন ভাঙার চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রসঙ্গত, অতীতে হিন্দুত্ববাদীরা উত্তরপ্রদেশেরই জ্ঞানবাপী মসজিদ নিয়ে একই ধরনে দাবি করেছিল। এরপর আদালতের নির্দেশে সমীক্ষা করে ভারতীয় পুরাতত্ব সর্বেক্ষণ। তাদের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট ছিল, মসজিদ তৈরি হওয়ার আগে সেখানে হিন্দু মন্দিরই ছিল। জ্ঞানবাপী মসজিদের নিচে হিন্দু মন্দিরের কাঠামো পাওয়া গিয়েছে। সমীক্ষাকাজে গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডারের তথ্য বলছে, মসজিদটি মন্দিরের কাঠামোর উপরই তৈরি হয়েছে। পরবর্তীকালে মধ্য ভোজশালার মসজিদ নিয়েও একই দাবি ওঠে। গত মে মাসে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট এটিকে হিন্দু মন্দির বলেই স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, দেওবন্দের দারুল উল্লমেরও কি একই পরিণতি হবে?