বিএসএফের গুলিতে ফের বাংলাদেশি পাচারকারীর মৃত্যু! মৃত যুবকের নাম তারা মিয়া (২৪)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবল শোরগোল ত্রিপুরায়। এই ঘটনায় সীমান্তে চোরাচালান সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। ফলে আরও জোরদার করা হয়েছে সীমান্তের নজরদারি।
সূত্র মারফত জানা গেছে, শনিবার গভীর রাতে আনুমানিক রাত ১২টা নাগাদ গৌরনগর আরডি ব্লকের অন্তর্গত মাগুরউলি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার ৪৪ নম্বর সীমান্ত অঞ্চলের ১৮৪৫/৬৩-এস পিলারের কাছাকাছি ৫ থেকে ৬ জন বাংলাদেশি যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখেন জওয়ানরা। তাঁদের কাছে বিভিন্ন ধরনের পাচারসামগ্রী ছিল বলে বিএসএফ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ, সীমান্তে কর্তব্যরত জওয়ানরা তাঁদের বারবার সতর্ক করে সরে যেতে বলেন। কিন্তু সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে তাঁরা সীমান্ত এলাকা থেকে সরে না গিয়ে এগিয়ে আসার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ গুলি চালায়। গুলিতে তারা মিয়া গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত যুবক বাংলাদেশের মৌলভিবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা এলাকার দশটেকি গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। তাঁর পিতার নাম আবদুল মালিক।
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। বিএসএফের পাশাপাশি ইরানি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পরে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে মরদেহটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঊনকোটি জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইমরান আহমেদ জানান, সকাল প্রায় ১১টার দিকে বাংলাদেশের এক মৃত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। মরদেহটি বর্তমানে মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
ত্রিপুরার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুর্গম ও অন্ধকারাচ্ছন্ন কিছু অংশকে কাজে লাগিয়ে রাতে পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে ওঠার অভিযোগ নতুন নয়। সীমান্তের একাধিক এলাকায় সুযোগ বুঝে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ সামগ্রী পারাপারের চেষ্টা চলে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। বিশেষ করে গভীর রাতে দলবদ্ধভাবে সীমান্তের দিকে যাতায়াত নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, ফেন্সিং লাইট ও নজরদারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও পাচারকারীরা বিভিন্ন কৌশলে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ। ফলে বিএসএফের নজরদারিও ক্রমশ কঠোর হচ্ছে। তারা মিয়ার মৃত্যুর ঘটনা অবশ্য সীমান্ত নিরাপত্তা ও পাচারের পাশাপাশি মানবিক দিক থেকেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও বাড়ছে উদ্বেগ।