উত্তাল সমুদ্রে ফের বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবি! চরে ধাক্কা লেগে ট্রলারে ফুটো হয়ে হুড়মুড়িয়ে ডল ঢুকতে থাকে ট্রলারে। মারাত্মক দুর্ঘটনা থেকে কোনওমতে প্রাণে বাঁচেন ১৩ মৎস্যজীবী। শনিবার রাতে গভীর সমুদ্র থেকে উপকূলে ফিরছিল পাথরপ্রতিমার ব্রজবল্লভপুরের ‘এফবি শুভদ্বীপ’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সুন্দরবনের বাঘের চরের কাছে বিজুয়াড়া খালের চরে গিয়ে ধাক্কা মারে। সঙ্গে সঙ্গে ট্রলারের তলা ফুটো হয়ে ভিতরে জল ঢুকতে শুরু করে। সমুদ্রে ডুবতে শুরু করে ট্রলারটি। এরপরই শুরু হয় প্রাণে বাঁচার লড়াই।
ডুবন্ত ট্রলার থেকে বিপদগ্রস্ত মৎস্যজীবীরা এসওএস বার্তা পাঠান পাথরপ্রতিমা বিডিওর কন্ট্রোলরুমে। দুর্ঘটনার কথা কন্ট্রোলরুম থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের দপ্তরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই রামগঙ্গা রেঞ্জের বনদপ্তরের বিভিন্ন বিট অফিসার ও বনকর্মীরা এবং গোবর্ধনপুর কোস্টাল থানার পুলিশ ঘটনাস্হলে পৌঁছে যান। তারপরেই শুরু হয় ডুবন্ত ট্রলার থেকে মৎস্যজীবীদের উদ্ধার কাজ।
ওয়েস্টবেঙ্গল ইউনাইটেড ফিশারমেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সম্পাদক বিজন মাইতি বলেন, “সীতারামপুর-গোবর্ধনপুর থেকে প্রায় দু’ঘণ্টা সমুদ্রের গভীরে বাঘের চর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। ওই ডুবন্ত ট্রলার থেকে উদ্ধার করে বনদপ্তরের নৌকায় তোলা হয় ১৩ জন মৎস্যজীবীকেই। পুলিশ ও বনদপ্তরের তৎপরতায় দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলারের ১৩ জন মৎস্যজীবীর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হল। তাঁরা সকলেই সুস্থ আছেন। যদিও ট্রলারটিকে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।” সেটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি। উদ্ধার হওয়া মৎস্যজীবীদের সীতারামপুর ঘাটে নিয়ে আসা হচ্ছে।
মাস খানেক আগেই বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে বাংলার ৯ মৎস্যজীবী প্রাণ হারিয়েছেন। ৭ দিন নিখোঁজ থাকার পর পুর্ব মেদিনীপুরের শঙ্করপুর থেকে রওনা দেওয়া ট্রলার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালিতে উদ্ধার হয়। নিহত মৎস্যজীবী পরিবারের জন্য অর্থ সাহায্য ও চাকরি ঘোষণা করে বাংলার সরকার। এবার ট্রলার ডুবিতে আরও একটি ভয়ংকর দুর্ঘটনার মুখ থেকে বরাত জোরে বেঁচে ফিরলেন বাংলার মৎস্যজীবীরা।