মোটা মাইনের চাকরির টোপ দিয়ে কলকাতার যুবকদের উজবেকিস্তানে ‘পাচার’, তারপর…
প্রতিদিন | ১০ আগস্ট ২০২৬
মোটা মাইনের টোপ দিয়ে জাল ভিসায় কলকাতা থেকে উজবেকিস্তানে কাজে পাঠিয়ে প্রতারণা। একবালপুরের দুই যুবকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় প্লেসমেন্ট এজেন্সির আড়ালে একটি প্রতারণা চক্র। পর্যটন ভিসায় তাঁদের বিদেশে পাঠিয়ে মোটা টাকার বেতনের চাকরির বদলে ডেলিভারি বয়ের কাজ করানো হত। খেতে দেওয়া হত একবেলা। পর্যটন ভিসায় কাজ করার জন্য এক যুবককে গ্রেপ্তারও হতে হয়। শেষ পর্যন্ত পুলিশের ভয়ে চোরাপথে উজবেকিস্তান থেকে কাজাখস্তানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় যুবকরা। এরপর কোনওমতে কলকাতা ফিরলেও ‘প্লেসমেন্ট’ এজেন্সির হুমকির মুখে পড়েন ওই যুবকরা। প্রথমে তাঁরা একবালপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। যেহেতু ওই প্লেসমেন্ট এজেন্সিটি দক্ষিণ শহরতলির ঠাকুরপুকুর এলাকায়, তাই একবালপুর থানার পুলিশ জিরো এফআইআর করে ওই মামলাটি ঠাকুরপুকুর থানায় পাঠিয়ে দেয়। পুলিশ এই ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, একবালপুরের দুই যুবক ঠাকুরপুকুরের প্লেসমেন্ট এজেন্সিতে যাওয়ামাত্রই তুর্কিতে তাঁদের মোটা বেতনের চাকরির টোপ দেন। তাঁদের একেকজনের কাছ থেকে গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে দু’লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। এর পর তাঁদের বলা হয়, তুর্কির বদলে উজবেকিস্তানে চাকরি দেওয়া হবে। তাঁদের ভুয়ো ভিসা হোয়াটস অ্যাপে পাঠানো হয়। পাসপোর্ট নিয়ে নেওয়া হয়। দিল্লিতে গিয়ে যখন তাঁরা পাসপোর্ট হাতে পান, দেখেন তাঁদের পর্যটন ভিসায় পাঠানো হচ্ছে উজবেকিস্তানে। সেখানে যাওয়ার পর তাঁদের ভিসা পালটে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু ওই দেশে গিয়েই অত্যাচারের মুখে পড়েন যুবকেরা। মোটা বেতনের চাকরির বদলে তাঁদের ডেলিভারি বয়ের কাজ করতে হয়। এক বেলা খেতে দেওয়া হত। তাঁদের পর্যটন ভিসার নথিতে একটি হোটেলের নাম দেওয়া ছিল। পরে তাঁরা জানতে পারেন যে, সেটিও জাল।
অথচ ওই ভুয়া হোটেলে থাকার জন্যও তাঁদের ভারতীয় মুদ্রা খরচ করতে হয়। তার উপর পর্যটন ভিসা নিয়ে কাজ করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তারও হতে হয়। শেষে পুলিশি ঝামেলা থেকে বাঁচতে তাঁরা দালালের সাহায়্যে চোরাপথে কাজাখস্তানে পালিয়ে যান। সেখানে কিছুদিন লুকিয়ে থাকার পর কোনওমতে দেশে ফিরে আসতে পারেন। এরপরই তাঁরা ঠাকুরপুকুরের ওই প্লেসমেন্ট এজেন্সির অফিসে গিয়ে টাকা ফেরত চান। তখনই তাঁদের হুমকির মুখে পড়তে হয়। এমনকী, পুলিশকেও মিথ্যা অভিযোগ জানিয়ে ডেকে আনা হয়। পুলিশ আধিকারিকরা দুই যুবককেই পালটা অভিযোগ জানাতে বলেন। তাঁরা বাড়ি যাওয়ার পর একবালপুর থানায় এজেন্সির তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। জিরো এফআইআর দায়ের হওয়ার পর ঠাকুরপুকুর থানায় মামলা পাঠানো হয়। অভিযুক্তদের তলব করে জেরা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।