সকাল থেকে উৎসবের মেজাজ। হলকর্ষণ উৎসব হবে। বীরভূমের শ্রীনিকেতন জুড়ে সাজ সাজ রব। মঞ্চের সামনে দু’টো বলদ দাঁড়িয়ে। নতুন হাল এসেছে। উপস্থিত রয়েছেন কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। আয়োজনের কোথাও কোনও খামতি নেই। সব চলছিল নিখুঁত ছন্দে।
আচমকাই বিপত্তি। মূল অনুষ্ঠান শুরু হতেই বেঁকে বসল একটি বলদ। কিছুতেই হাল নেবে না সে। এক পা-ও নড়ানো যাচ্ছে না তাকে। একবার, দু’বার—নানা ভাবে তাকে সামনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলল। কিন্তু সে যেন পণ করে এসেছে এগোবে না। উদ্যোক্তারা গলদঘর্ম। শেষ পর্যন্ত মাটিতে বসে পড়ল বলদটি।
এ বার কী হবে? এ ওর মুখের দিকে তাকাচ্ছেন। তা হলে কি অনুষ্ঠান ভেস্তে যাবে? এমন পরিস্থিতিতে ত্রাতা মধুসূদনের মতো এগিয়ে এলেন কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। তিনি নিজে কৃষক পরিবারের সন্তান। মাটি, জমি, হাল, বলদের সঙ্গে তাঁর আজন্ম পরিচয়। ধীর পায়ে তিনি বলদটির পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন।
সবাই তখন উন্মুখ। কৃষিমন্ত্রী কোনও টানাটানি, জোরাজুরি করলেন না। অত্যন্ত স্নেহের সঙ্গে বলদের গায়ে দু’বার হাত বোলালেন। যেন খুব পরিচিত কেউ। তার পরে শান্ত ভাবে বলদের কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে কিছু বললেন তিনি। কয়েক সেকেন্ড মাত্র। তার পরেই উঠে দাঁড়াল বলদ।
কিছুক্ষণ আগেও যে বলদটি এক পা এগোতে রাজি ছিল না, আচমকাই সে শান্ত। কোনও জোরজবরদস্তি নেই। ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়াল। তারপর স্বাভাবিক ভাবেই কাঁধে নিল হাল। শুরু হলো হলকর্ষণ। উপস্থিত সকলেই বিস্মিত। কেউ বললেন, ‘এ তো ম্যাজিক!’ আবার কারও কথায়, ‘মিরাকল, মিরাকল।’
কৃষিমন্ত্রী বলদের কানে ঠিক কী বলেছিলেন, তা জানা যায়নি। তবে তাঁর কয়েকটি শব্দেই যে গোটা পরিস্থিতির মোড় ঘুরে গিয়েছে, সে কথা মেনে নিচ্ছেন উপস্থিত সকলেই। হলকর্ষণ তো মাটি, কৃষি আর মানুষের সম্পর্কের এক প্রতীকী উদযাপন। গোরু, বলদের সঙ্গেও যে মানুষের একই রকম বন্ধন রয়েছে, কৃষিমন্ত্রী যেন সেটাই মনে করিয়ে দিলেন আরও একবার।
প্রশ্ন: কোথায় হলকর্ষণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে?
উত্তর: বীরভূমের বিশ্বভারতীর শ্রীনিকেতনে ঐতিহ্য মেনে হলকর্ষণ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রশ্ন: অনুষ্ঠানে কী ঘটেছিল?
উত্তর: হলকর্ষণ শুরু করার সময় একটি বলদ হাল নিতে রাজি হচ্ছিল না। নানা চেষ্টা করেও তাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছিল না। একসময় সে মাটিতে বসে পড়ে।
প্রশ্ন: বলদটি কেন এগোচ্ছিল না?
উত্তর: কেন বলদটি হাল নিতে চাইছিল না, তা স্পষ্ট নয়। অনুষ্ঠানের সময় আচমকাই সে এগোতে অস্বীকার করে।
প্রশ্ন: পরিস্থিতি কী ভাবে সামাল দেন কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল?
উত্তর: কৃষিমন্ত্রী বলদটির কাছে গিয়ে প্রথমে স্নেহের সঙ্গে তার গায়ে হাত বোলান। তার পর কানের কাছে মুখ নিয়ে কয়েকটি কথা বলেন। এর পরেই বলদটি শান্ত হয়ে উঠে দাঁড়ায়।
প্রশ্ন: কৃষিমন্ত্রী বলদের কানে কী বলেছিলেন?
উত্তর: ঠিক কী বলেছিলেন, তা জানা যায়নি। তবে কয়েক সেকেন্ড কথা বলার পরেই বলদটির আচরণ বদলে যায়।
প্রশ্ন: শেষ পর্যন্ত কি হলকর্ষণ শুরু হয়েছিল?
উত্তর: হ্যাঁ। বলদটি উঠে দাঁড়ানোর পর স্বাভাবিক ভাবেই হাল টানতে শুরু করে এবং হলকর্ষণ সম্পন্ন হয়।
প্রশ্ন: ঘটনাটি দেখে উপস্থিতদের প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
উত্তর: আচমকা বলদের শান্ত হয়ে যাওয়ার ঘটনায় উপস্থিতরা বিস্মিত হন। কেউ ঘটনাটিকে ‘ম্যাজিক’, আবার কেউ ‘মিরাকেল’ বলে মন্তব্য করেন।
প্রশ্ন: কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলের সঙ্গে কৃষির সম্পর্ক কী?
উত্তর: দুধকুমার মণ্ডল কৃষক পরিবারের সন্তান। মাটি, জমি, হাল ও কৃষিকাজের সঙ্গে তাঁর ছোটবেলা থেকেই পরিচয় রয়েছে।
প্রশ্ন: হলকর্ষণ উৎসবের গুরুত্ব কী?
উত্তর: হলকর্ষণ মাটি, কৃষি ও মানুষের সম্পর্কের প্রতীকী উদ্যাপন। বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবের সঙ্গে কৃষিজীবন ও প্রকৃতির নিবিড় সম্পর্ক জড়িয়ে রয়েছে।