জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সীমা দাস শাসমলের (২১) রহস্যমৃত্যু ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল পূর্ব মেদিনীপুরে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি ‘প্রিতমা’ নামে পরিচিত ছিলেন। নাচের ভিডিয়ো পোস্ট করতেন। সেগুলির লক্ষাধিক ভিউজও হতো। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরচুলা রং করার রাসায়নিক খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন সীমা। শনিবার রাতে তমলুকের একটি নার্সিংহোমে মৃত্যু হয় তাঁর। ইতিমধ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে পরিবারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সীমা দাস শাসমল, বয়স ২১ বছর।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘প্রিতমা’ নামে পরিচিত ছিলেন সীমা।
পরচুলা রং করার রাসায়নিক খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।
শনিবার রাতে তমলুকের একটি নার্সিংহোমে মৃত্যু হয় সীমার।
অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে চণ্ডীপুর থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, চণ্ডীপুর থানার পায়রাচালি গ্রামে বাড়ি সীমার। শনিবারও নিজের ফেসবুক পেজে তারকেশ্বরে জল ঢালতে যাওয়ার একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন তিনি। সেখানেও হাসিখুশি দেখাচ্ছিল তাঁকে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই খবর সামনে আসে।
সূত্রের খবর, ওই দিন বিকেলে পরচুলা রং করার রাসায়নিক খেয়ে নেন সীমা। কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে চণ্ডীপুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় স্থানান্তরিত করা হয় তমলুকের একটি নার্সিংহোমে। সেখানেই রাত ১২টা নাগাদ মৃত্যু হয় সীমার।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার স্বামী মনোজিতের সঙ্গে তারকেশ্বরে গিয়েছিলেন সীমা। দু’জনে মন্দিরে পুজো দেন। তার পরে বাড়ি ফিরে আসেন। মনোজিৎ পরচুলার কাজ করেন। সীমাও স্বামীর সঙ্গে সেই কাজে হাত লাগাতেন। পাশাপাশি জামাকাপড় সেলাইয়ের কাজও করতেন তিনি।
শনিবার বিকেলে পরচুলা ডেলিভারি দিতে গিয়েছিলেন মনোজিৎ। সেই সময়ে বাড়িতেই ছিলেন সীমা। পরিবারের দাবি, তখনই পরচুলা রং করার রাসায়নিক খান তিনি। কী কারণে সীমা এমন কাজ করলেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।
মনোজিতের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সীমার। বছর তিনেক আগে তাঁরা বিয়ে করেন বলে জানিয়েছেন সীমার দাদু বিষ্ণুপদ শাসমল। তাঁর কথায়, ‘দু’জনেই হাসিখুশি থাকত। সংসারে অশান্তির কোনও খবরও পাইনি। হঠাৎ কী হল, কিছুই বুঝতে পারছি না।’ ইতিমধ্যেই একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে মনোজিৎ বা তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
সীমার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই অবাক হয়ে গিয়েছেন তাঁর অনুরাগীরা। এই নিয়ে জোর চর্চা চলছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। কেন তিনি পরচুলা রং করার রাসায়নিক খেয়েছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
প্রশ্ন: সীমা দাস শাসমল কে ছিলেন?
উত্তর: পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরের পায়রাচালি গ্রামের বাসিন্দা সীমা দাস শাসমল সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘প্রিতমা’ নামে পরিচিত ছিলেন। নাচের ভিডিয়ো পোস্ট করতেন তিনি। তাঁর ভিডিয়োয় লক্ষাধিক ভিউজ হত।
প্রশ্ন: সীমার কী ভাবে মৃত্যু হয়?
উত্তর: পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরচুলা রং করার রাসায়নিক খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন সীমা। পরে তমলুকের একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রশ্ন: কখন সীমার মৃত্যু হয়?
উত্তর: শনিবার রাত ১২টা নাগাদ তমলুকের একটি নার্সিংহোমে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রশ্ন: কেন সীমা রাসায়নিকটি খেয়েছিলেন?
উত্তর: কী কারণে তিনি পরচুলা রং করার রাসায়নিক খেয়েছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
প্রশ্ন: পুলিশ কি মামলা দায়ের করেছে?
উত্তর: হ্যাঁ। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে চণ্ডীপুর থানার পুলিশ।
প্রশ্ন: পরিবারের তরফে কি কোনও অভিযোগ করা হয়েছে?
উত্তর: এখনও পর্যন্ত সীমার পরিবার মনোজিৎ বা তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।
প্রশ্ন: সীমার সঙ্গে মনোজিতের সম্পর্ক কী ছিল?
উত্তর: প্রায় তিন বছর আগে প্রেম করে মনোজিতের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল সীমার। পরিবার সূত্রে দাবি, তাঁরা হাসিখুশিই সংসার করছিলেন।
প্রশ্ন: মৃত্যুর আগে সীমা কী পোস্ট করেছিলেন?
উত্তর: শনিবারও নিজের ফেসবুক পেজে তারকেশ্বরে জল ঢালতে যাওয়ার একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন সীমা।