• কানওয়ার যাত্রার পথে চিকেন বিরিয়ানি বিক্রি, বরেলিতে আটক ৪ জন, জেসিবি দিয়ে দোকান ভাঙার অভিযোগ
    এই সময় | ১০ আগস্ট ২০২৬
  • শ্রাবণে কানওয়ার যাত্রা শুরু হয়েছে। হরিদ্বারের হর কি পৌড়ি থেকে গঙ্গাজল কাঁধে শিবমন্দিরে যাচ্ছেন ভক্তরা। সেই পথে চিকেন বিরিয়ানি বিক্রির অভিযোগে কর্মী ও দোকানদার-সহ চার জনকে আটক করল পুলিশ। শনিবার উত্তরপ্রদেশের বরেলির এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কানওয়ার যাত্রার রাস্তায় থাকা খাবারের দোকানগুলির উপরে বাড়তি নজরদারি শুরু করেছে পুলিশ।

    বরেলি-বহেড়ি রুট-সহ একাধিক রাস্তা দিয়ে বাঁক কাঁধে মন্দিরে যান শিবভক্তরা। সেই সব পথের দোকানদেরই মাছ-মাংস বিক্রি না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় তাঁরা খবর পান, বহেড়ির পুরোনো বাসস্ট্যান্ডের একটি দোকানে চিকেন বিরিয়ানি বিক্রি হচ্ছে। এর পরেই শুরু হয় অভিযান।

    পুলিশের দাবি, দোকানের মালিককে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে চিকেন বিরিয়ানি বিক্রির অভিযোগে তাঁকে ও দোকানের এক কর্মচারীকে আটক করা হয়। ধৃত দু’জনেই উত্তরপ্রদেশেরই বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।

    এর পরে বেকারি এলাকার আরও একটি দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে আমিষ বিক্রির অভিযোগে আরও দু’জনকে আটক করা হয়। অভিযানের পরে জেসিবি দিয়ে দোকানগুলি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই প্রসঙ্গে বহেড়ির সার্কেল অফিসার অরুণ কুমার সিংহ বলেন, ‘শ্রাবণ মাসে কানওয়ার যাত্রার রাস্তায় আমিষ খাবার বিক্রি নিয়ে আগেই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। তা না মানলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অবশ্য দোকান ভাঙা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

    বেআইনি ও লাইসেন্সবিহীন মাংসের দোকানগুলির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুরনিগমও। জুনেই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি হয়। কানওয়ার যাত্রার রুট এবং শিবিরগুলির আশপাশে থাকা বেআইনি মাংসের দোকান বন্ধ করতে বলা হয় ব্যবসায়ীদের। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কানওয়ার যাত্রীদের জন্য রাজধানীতে ৩০৮টি শিবির খোলা হয়েছে। শ্রাবণের প্রথম দিন অর্থাৎ ৩০ জুলাই থেকে ১১ অগস্ট শিবরাত্রি পর্যন্ত সেগুলি চালু থাকার কথা। ফলে কানওয়ার যাত্রার রাস্তায় খাবারের দোকানগুলির উপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    প্রশ্ন: কানওয়ার যাত্রা কোথা থেকে শুরু করেন ভক্তরা?

    উত্তর: বহু কানওয়ারিয়া হরিদ্বারের হর কি পৌড়ি থেকে গঙ্গাজল সংগ্রহ করে কাঁধে নিয়ে বিভিন্ন শিবমন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করেন।

    প্রশ্ন: বরেলিতে কেন চার জনকে আটক করা হয়েছে?

    উত্তর: কানওয়ার যাত্রার নির্দিষ্ট পথে আমিষ খাবার বিক্রি না করার নির্দেশ অমান্য করে চিকেন বিরিয়ানি ও অন্যান্য আমিষ খাবার বিক্রির অভিযোগে চার জনকে আটক করা হয়েছে।

    প্রশ্ন: কোথায় অভিযান চালানো হয়েছিল?

    উত্তর: বহেড়ির পুরোনো বাসস্ট্যান্ডের কাছে এবং বেকারি এলাকার একটি দোকানে পুলিশ অভিযান চালায়।

    প্রশ্ন: দোকান ভাঙা হয়েছে কি?

    উত্তর: অভিযানের পর জেসিবি দিয়ে দোকানগুলির টিনের ছাউনি ও কাউন্টার সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    প্রশ্ন: কানওয়ার যাত্রার পথে আমিষ খাবার বিক্রির বিষয়ে কী নির্দেশ ছিল?

    উত্তর: শ্রাবণ মাসে কানওয়ার যাত্রার নির্দিষ্ট রাস্তায় মাছ, মাংস, মুরগি-সহ আমিষ খাবার বিক্রি না করার জন্য ব্যবসায়ীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    প্রশ্ন: দিল্লিতেও কি একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

    উত্তর: হ্যাঁ। কানওয়ার যাত্রার রুট ও শিবিরগুলির আশপাশে বেআইনি ও লাইসেন্সবিহীন মাংসের দোকান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুরনিগম।

  • Link to this news (এই সময়)