সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর উপরে বেজায় ক্ষুব্ধ হায়দরাবাদের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চের পড়ুয়ারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। সেই নিয়েই উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, অধ্যাপকদের কাছে আপত্তিপত্র পাঠালেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫০-র বেশি ছাত্রছাত্রী। তাঁদের দাবি, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক। তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেননি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
সমাবর্তনে CJI সূর্যকান্তকে প্রধান অতিথি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে NALSAR-এর ৪৫০-র বেশি পড়ুয়া আপত্তি জানিয়েছেন।
উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও অধ্যাপকদের কাছে চিঠি দিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে শুনানিতে পুলিশি অত্যাচারের ভিডিয়ো দেখতে প্রধান বিচারপতি রাজি হননি বলে অভিযোগ পড়ুয়াদের।
ভারতীয় যুব সমাজকে ‘ককরোচ’-এর সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন পড়ুয়ারা। যদিও প্রধান বিচারপতি আগে দাবি করেছিলেন, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত NALSAR কর্তৃপক্ষ পড়ুয়াদের আপত্তি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
আপত্তিপত্রে প্রধান বিচারপতির বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত এবং মন্তব্যের কথা তুলে ধরেছেন ছাত্রছাত্রীরা। তার মধ্যে নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পড়ুয়াদের সংসদ অভিযানের সময়ে বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের পদক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে ২৩ জুলাইয়ের শুনানির কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পড়ুয়াদের দাবি, শুনানিতে পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগ সংক্রান্ত ভিডিয়ো দেখতে রাজি হননি প্রধান বিচারপতি। তাঁদের অভিযোগ, সূর্যকান্ত নাকি বলেছিলেন, ‘আমরা ভিডিয়ো দেখতে আগ্রহী নই, আমাদের সময় নেই।’
প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি, যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে ভারতীয় যুব সমাজকে ‘ককরোচ’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। তবে এই নিয়ে প্রধান বিচারপতি আগেই জানিয়েছিলেন, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে তা মানতে রাজি নন NALSAR-এর পড়ুয়ারা। চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, ‘যুব সমাজকে ককরোচ বলা থেকে শুরু করে পুলিশের অত্যাচারের ভিডিয়ো দেখার সময় নেই মন্তব্য থেকে মনে হয়, প্রধান বিচারপতি তাঁদের মতো পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে উদাসীন।’ তাই প্রধান বিচারপতির হাত থেকে সমাবর্তনে ডিগ্রি নেওয়া তাঁদের কাছে অস্বস্তিকর বলে জানিয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা।
তবে পড়ুয়ারা এও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রধান বিচারপতির পদ নিয়ে তাঁদের কোনও আপত্তি নয়। সাম্প্রতিক কিছু মামলায় প্রধান বিচারপতির কথাবার্তা ও ভূমিকা আইন পড়ুয়াদের শেখানো সাংবিধানিক মূল্যবোধের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিই তাঁদের মূল প্রশ্ন। পড়ুয়াদের বক্তব্য, একটি আইন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন শুধু ডিগ্রি দেওয়ার অনুষ্ঠান নয়। সেখানে সাংবিধানিক অধিকার, ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগের প্রতি সংবেদনশীল থাকার মতো মূল্যবোধের প্রতিফলনও ঘটা উচিত।
এর আগে মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল সায়েন্সেস (TISS)-এর ৮৬তম সমাবর্তনও ‘অনিবার্য পরিস্থিতি’-র কারণে শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের সম্ভাব্য উপস্থিতি বা কোনও বিক্ষোভের সঙ্গে সেই সিদ্ধান্তের সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না তা জানা যায়নি। কোনও মন্তব্য করেননি কর্তৃপক্ষও। তবে আধিকারিক ও পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, ককরোচ জনতা পার্টিকে ঘিরে সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কায় তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। যদিও সমাবর্তন পিছিয়ে দেওয়ার সঙ্গে ওই আশঙ্কার সরাসরি যোগ ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। NALSAR-এর পড়ুয়াদের এই চিঠি ঘিরে ইতিমধ্যেই আইন ও শিক্ষামহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে পড়ুয়াদের আপত্তি নিয়ে এখনও পর্যন্ত NALSAR বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
প্রশ্ন: NALSAR-এর পড়ুয়ারা কেন CJI সূর্যকান্তকে নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন?
উত্তর: সাম্প্রতিক কয়েকটি মামলায় তাঁর মন্তব্য ও ভূমিকা সাংবিধানিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে পড়ুয়াদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রশ্ন: কত জন পড়ুয়া আপত্তিপত্রে সই করেছেন?
উত্তর: ৪৫০-র বেশি পড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো আপত্তিপত্রে সই করেছেন।
প্রশ্ন: কোন শুনানির প্রসঙ্গ তুলেছেন পড়ুয়ারা?
উত্তর: ২৩ জুলাই যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের উপর পুলিশের পদক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে হওয়া শুনানির প্রসঙ্গ বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন তাঁরা।
প্রশ্ন: ‘ককরোচ’ মন্তব্য নিয়ে কী অভিযোগ?
উত্তর: পড়ুয়াদের দাবি, যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ প্রসঙ্গে ভারতীয় যুব সমাজকে ‘ককরোচ’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। তবে প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
প্রশ্ন: পড়ুয়ারা ঠিক কী দাবি জানিয়েছেন?
উত্তর: সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে CJI সূর্যকান্তকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার পাশাপাশি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রশ্ন: NALSAR কর্তৃপক্ষ কী বলেছে?
উত্তর: এখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে পড়ুয়াদের আপত্তি নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।