• ‘মিথ্যা ও সাজানো মামলা’, ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’, ব্রিজভূষণের মামলায় দিল্লির আদালতের মন্তব্য প্রকাশ্যে
    এই সময় | ১০ আগস্ট ২০২৬
  • ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি ব্রিজভূষণ শরণ সিংকে বেকসুর খালাস করেছে দিল্লির রাউস অ্যাভেনিউ কোর্ট। তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ছয় মহিলা কুস্তিগির। তবে কোনও প্রমাণ মেলেনি। আদালতের রায়ের বিস্তারিত প্রতিলিপি এখনও প্রকাশ্যে না এলেও পর্যবেক্ষণের কিছু অংশ জানা গিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি ‘মিথ্যা ও সাজানো’। শুধু তাই নয়, এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গভীর ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে আদালত।

    ব্রিজভূষণ শরণ সিং, ভারতীয় কুস্তি ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপত

    ছয় মহিলা কুস্তিগিরের যৌন হেনস্থা, শ্লীলতাহানি ও পিছু নেওয়ার অভিযোগ

    ২০২৩ সালের ২৮ এপ্রিল দু’টি পৃথক এফআইআর

    ২০২৩ সালের ১৫ জুন প্রাপ্তবয়স্ক অভিযোগকারীদের মামলায় চার্জশিট

    নাবালিকা কুস্তিগিরের মামলায় ক্লোজার রিপোর্ট

    ২০২৪ সালের মে মাসে

    বিচারপর্বে মোট ৩২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ

    ২০২৬ সালের ২ জুলাই

    ব্রিজভূষণ শরণ সিংকে বেকসুর খালাস

    অভিযোগগুলিকে ‘মিথ্যা ও সাজানো’ বলে মন্তব্য; রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে

    আদালতের মতে, অভিযোগগুলির মধ্যে বেশ কিছু মিল রয়েছে। সেগুলো খতিয়ে দেখলেই বোঝা যায়, পুরোটা আগে থেকে ‘রিহার্সাল’ করা। একই সময়ে, একই জায়গায় এবং প্রায় একই ধরনের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। মামলায় অভিযোগকারী মহিলা কুস্তিগিরদের বক্তব্যও খতিয়ে দেখা হয়। তার মধ্যে দু’জন পরে নিজেদের বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন। আদালতে দাঁড়িয়ে তাঁরা দাবি করেছিলেন, তাঁদের ওই কথা বলার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। এই দুই কুস্তিগিরের বক্তব্যকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেছে আদালত।

    অভিযোগ দায়ের করতে দেরি হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আদালতের মতে, অভিযোগগুলির মধ্যে অস্বাভাবিক রকমের মিল রয়েছে। প্রায় একই সময়ে সেগুলো সামনে এসেছে। অভিযোগের ভাষা এবং ধরনেও অদ্ভুত সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া এমনটা হতে পারে না বলেই মনে করছে আদালত। রায় ঘোষণার পরে একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রিজভূষণ বলেছিলেন, ‘আমার সঙ্গে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। আমাকে যাঁরা দোষী মনে করেছিলেন, তাঁদের এখন আত্মসমালোচনা করা উচিত।’

    ২০২৩-এর এপ্রিল-মে মাসে ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগে সরব হন অলিম্পিক পদকজয়ী ও তারকা কুস্তিগির বিনেশ ফোগট, সাক্ষী মালিকরা। ব্রিজভূষণকে গ্রেপ্তারির দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে শুরু হয় অবস্থান বিক্ষোভ। কুস্তি ফেডারেশনের পদ থেকে তাঁকে সরানোর দাবিও তুলেছিলেন বিনেশ, সাক্ষীরা। এর পরে ২০২৩-এর ২৮ এপ্রিল ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে দু’টি পৃথক এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ।

    এর মধ্যে একটি এফআইআর করা হয় ছয় জন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা কুস্তিগিরের অভিযোগের ভিত্তিতে। যৌন হেনস্থা, শ্লীলতাহানি এবং পিছু নেওয়ার মতো ধারায় মামলা রুজু হয়। অন্যটি ছিল এক নাবালিকা কুস্তিগিরের অভিযোগ। তাঁর ক্ষেত্রে পকসো আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২০২৩-এর ১৫ জুন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা কুস্তিগিরদের অভিযোগের মামলায় চার্জশিট পেশ করে দিল্লি পুলিশ। একই দিনে নাবালিকা কুস্তিগিরের পকসো মামলায় ক্লোজার রিপোর্টও জমা দেওয়া হয়। ওই বছরের জুলাইয়ে আদালত চার্জশিট গ্রহণ করলে শুরু হয় বিচারপ্রক্রিয়া।

    প্রশ্ন: ব্রিজভূষণ শরণ সিংয়ের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল?

    উত্তর: ছয় মহিলা কুস্তিগির তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থা, শ্লীলতাহানি এবং পিছু নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন।

    প্রশ্ন: ব্রিজভূষণের বিরুদ্ধে কবে এফআইআর দায়ের হয়?

    উত্তর: ২০২৩ সালের ২৮ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে দু’টি পৃথক এফআইআর দায়ের করে দিল্লি পুলিশ।

    প্রশ্ন: নাবালিকা কুস্তিগিরের অভিযোগের কী হয়েছিল?

    উত্তর: তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরে দিল্লি পুলিশ ওই মামলায় ক্লোজার রিপোর্ট জমা দেয়।

    প্রশ্ন: ব্রিজভূষণ শরণ সিং কি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন?

    উত্তর: না। দিল্লির রাউস অ্যাভেনিউ কোর্ট তাঁকে বেকসুর খালাস করেছে।

    প্রশ্ন: আদালত অভিযোগগুলি নিয়ে কী বলেছে?

    উত্তর: আদালতের পর্যবেক্ষণের প্রকাশিত অংশ অনুযায়ী, অভিযোগগুলি ‘মিথ্যা ও সাজানো’ এবং এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গভীর ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা রয়েছে।

    প্রশ্ন: মামলায় কত জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল?

    উত্তর: বিচারপর্বে মোট ৩২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

  • Link to this news (এই সময়)