এই সময়, দুর্গাপুর: অন্ডাল থানার অধীন পরাশকোল কোলিয়ারি এলাকায় ইসিএলের একটি পরিত্যক্ত আবাসন থেকে ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫৬ রাউন্ড কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করল এসটিএফ।
শনিবার মধ্যরাতে খনি অঞ্চলের কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া সামশের হোসেন ও আগ্নেয়াস্ত্রের কারবারি খাইরুল আলম ওরফ গদাইকে সঙ্গে নিয়ে ইসিএলের একটি পরিত্যক্ত আবাসনে তল্লাশি চালিয়ে এই আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজগুলি বাজেয়াপ্ত করে এসটিএফ। সূত্রের খবর, সাতটি সেভেন এমএম পিস্তল, চারটি নাইন এমএম পিস্তল, তিনটি রিভলভার ও একটি পাইপগান বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি ৫৬ রাউন্ড কার্তুজ মজুত করা ছিল ওই আবাসনে। এই অস্ত্র কাদের বিক্রি করার কথা ছিল ও অস্ত্রগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল, তা নিয়ে বিশদে তদন্ত শুরু করছে এসটিএফ।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার জামুড়িয়ায় বেলবাঁধ এলাকা থেকে খাইরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে এসটিএফ। তার বাড়ি বীরভূম জেলায়। শ্বশুরবাড়ি পাণ্ডবেশ্বর থানার দান্য গ্রামে। বেশ কিছু দিন ধরে শ্বশুরবাড়িতেই ছিল খাইরুল। বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ এনে পশ্চিম বর্ধমান জেলার খনি ও শিল্পাঞ্চলে বিক্রি করত সে। এই কাজে খাইরুলকে সাহায্য করত কয়লা মাফিয়া সামশের।
খাইরুল গ্রেপ্তার হওয়ার পরেই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় সামশের। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে গত সোমবার রাঁচি থেকে সামশেরকে গ্রেপ্তার করে বেঙ্গল এসটিএফ। মঙ্গলবার তাকে রাঁচি আদালতে পেশ করে ট্রানজ়িট রিমান্ডে দুর্গাপুরে নিয়ে আসা হয়। সামশের ও খাইরুলকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার পরে এসটিএফ জানতে পারে, অন্ডালের পরাশকোল এলাকায় ইসিএলের পরিত্যক্ত আবাসনে আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ মজুত করা রয়েছে। সেখানেই অস্ত্রগুলি রেখেছে সামশের।
শনিবার মধ্যরাতে তাদের দু’জনকে পরাশকোল এলাকায় ইসিএলের আবাসনে নিয়ে আসে এসটিএফ। সেখানে বি–ব্লকের একেবারে শেষ আবাসনে তল্লাশি চালিয়ে ওই আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করেছে এসটিএফ।
খনি অঞ্চলে এ ভাবেই আর কোথাও আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ লুকিয়ে রাখা আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখছেন এসটিএফ–এর প্রতিনিধিরা।