• রাস্তা দখল করে ইমারতির দ্রব্য, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা
    এই সময় | ১০ আগস্ট ২০২৬
  • দিব্যেন্দু সরকার, আরামবাগ

    পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তারা বার বার সচেতন করা সত্ত্বেও এখনও হুঁশ ফিরল না সাধারণ মানুষের। রাস্তা দখল করে ইমারতি দ্রব্যের ব্যবসা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে আরামবাগ মহকুমার খানাকুলে। রাস্তা কি সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য, নাকি বেআইনি গুদামঘর? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে খানাকুলের গড়েরঘাট-মায়পুর রোডের বাসিন্দাদের মধ্যে। আরামবাগের মায়াপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে খানাকুলের গড়ের ঘাট পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিমি দূরত্বের এই রাস্তায় প্রায় অধিকাংশ এলাকাতেই ইমারতি দ্রব্য ফেলে রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মালিকানায়।

    বালি, ইট, পাথর, স্টোনচিপস-সহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী, যা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট জায়গায় সংরক্ষিত থাকার কথা, তা দিনের পর দিন সরকারি রাস্তার উপরে স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। ফলে, সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য তৈরি রাস্তা ধীরে ধীরে বেআইনি গুদামঘরে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গড়েরঘাট-মায়পুর রোড অত্যন্ত ব্যস্ত একটি যোগাযোগপথ। প্রতি দিন এই রাস্তা দিয়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।

    স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্স- সবারই ভরসা এই রাস্তা। কিন্তু রাস্তার দু'পাশে ইমারতি সামগ্রীর স্তূপ পড়ে থাকায়, রাস্তার কার্যকর প্রস্থ অনেকটাই কমে যাচ্ছে। সঙ্কীর্ণ হয়ে যাচ্ছে রাস্তা। বিপরীত দিক থেকে দু'টি গাড়ি এলে, একে অপরকে পাশ কাটাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সামান্য অসাবধানতা বা দ্রুত গতির কারণে যে কোনও সময়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন পথচারীরা।

    রাস্তার উপরে নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকায়, অনেক ক্ষেত্রেই তাঁদের বাধ্য হয়ে মূল রাস্তা দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে। এতে ছোট-বড় যানবাহনের সঙ্গে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়ছে। একই সঙ্গে, সাইকেল ও বাইক চালকদেরও একই কারণে দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের তরফে আগেও একাধিক বার মাইকিং করে রাস্তা দখল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ে কিছু দিনের জন্য পরিস্থিতির উন্নতি হয়। কয়েকজন ব্যবসায়ী রাস্তা থেকে সামগ্রী সরিয়েও নিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশাসনের নজরদারি কমতেই, আবার আগের ছবিই ফিরে এসেছে।

    বর্তমানে রাস্তার বিভিন্ন অংশে একই ভাবে সরকারি জমি ও রাস্তা দখল করে ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ। সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, অভিযোগের মুখে কিছু ব্যবসায়ীর সাফাই, 'আমার দোকানের পিছনে নিজস্ব জায়গা আছে। কিন্তু সবাই রেখেছে, তাই আমরাও রেখেছি। প্রশাসন সরাতে বললে সরিয়ে নেব।' এই বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আইন মেনে চলার দায়িত্ব কি শুধুমাত্র প্রশাসনের নির্দেশের উপরে নির্ভর করবে? নাকি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সরকারি রাস্তা দখল না করার নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব ব্যবসায়ীদেরও রয়েছে? এ ব্যাপারে খানাকুলের বাসিন্দা শিক্ষক অমিত আঢ্য বলেন, 'এ ভাবে রাস্তাজুড়ে ইমারতি দ্রব্য রাখা একেবারেই ঠিক নয়। এর জেরে দুর্ঘটনার আশঙ্কা সব সময় থাকে। প্রশাসনের উচিত, কড়া পদক্ষেপ করা।'

    স্থানীয়দের মতে, প্রশাসনের অভিযানের পরে কয়েকদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও, নিয়মিত নজরদারির অভাবে ফের বেআইনি দখলদারি শুরু হয়ে যায়। ফলে, সরকারি নির্দেশ কার্যকর থাকছে না বলেই অভিযোগ। তাঁদের দাবি, কেবল সতর্কীকরণ নয়, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, জরিমানা এবং প্রয়োজন হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সরকারি রাস্তা দখল করার সাহস না পায়। খানাকুলবাসীর একটাই আবেদন, দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পরে প্রশাসনিক তৎপরতা নয়, তার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ করা হোক। এই বিষয়ে খানাকুলের বিধায়ক সুশান্ত ঘোষ বলেন, 'আমিও দেখেছি। পুলিশকে বলেছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

  • Link to this news (এই সময়)