• বিএসএফের বৈঠক নিষ্ফলা, এখনও বাংলাদেশে বন্দি ভারতীয় চাষি
    প্রতিদিন | ১০ আগস্ট ২০২৬
  • দ্বিতীয় বৈঠকও নিষ্ফলা। বাংলাদেশে পণবন্দি ভারতীয় চা চাষিকে ফেরাতে শর্ত রাখল বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা। শনিবার বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া চা-বাগান থেকে জলপাইগুড়ির চাউলহাটির তসরপাড়ার বাসিন্দা দীপঙ্কর গোপকে তুলে নিয়ে যায় বাংলাদেশি দুষ্কৃতীদের একটি দল। শর্ত, গত ৬ আগস্ট চাউলহাটি সীমান্ত থেকে চোরাচালানের অভিযোগে তজিমুদ্দিন ইসলাম (৬০) নামে যে বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে আদালতে চালান করেছে বিএসএফ, তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। শনিবার ফ্ল্যাগ মিটিং ব্যর্থ হয়। রবিবার বিকেলে ফের ফ্ল্যাগ মিটিং করে বিএসএফ। তবে সেই বৈঠকও ব্যর্থ হয় বলে খবর।

    এদিন সীমান্তে গিয়ে বিএসএফ এবং বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন রাজগঞ্জের বিধায়ক দীনেশ সরকার। জানান, ওরা শর্ত চাপাচ্ছে। বিএসএর তরফে সবরকমের চেষ্টা চলছে। তবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা যেভাবে ভারতীয় নাগরিককে তুলে নিয়ে গিয়েছে, তার সমালোচনা করেছেন বিধায়ক। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনা প্রমাণ করে ওরা আইনকানুন মানে না। নাহলে নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য একজন সাধারণ যুবককে এভাবে অপহরণ করে কেউ নিয়ে যেতে পারে না। বিষয়টি নিজেও আলাদা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রীর নজরে আনবেন বলে জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায় জানিয়েছেন। ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন কুকুরজান গ্রাম পঞ্চায়েতের চাউলহাটি এলাকার বাসিন্দারা।

    জানা গিয়েছে, সীমান্তের কাঁটাতার কেটে ভারতে ঢোকার সময় বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার গিরাজোত গ্রামের বাসিন্দা তজিমুদ্দিন ইসলামকে আটক করে পুলিশ। সীমান্তে চোরাচালানে অন্যতম কিংপিন সে বলে অভিযোগ। পরে তাকে রাজগঞ্জ থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয় বিএসএফ। বর্তমানে জলপাইগুড়ি সেন্ট্রাল জেলে বন্দি তজিমুদ্দিন। তাকে ছাড়াতেই অপহরণের রাস্তায় হাঁটে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা। শুক্রবার সকালে ভারতীয় সীমান্তের ভেতর ঢুকে দীপঙ্কর গোপকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এর পিছনে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনীরও মদত রয়েছে বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীদের দাবি, দ্রুত দীপঙ্করকে দেশে ফেরাতে হবে। বিধায়ক জানান, পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। দ্রুত ফিরে আসবে বলে আশাবাদী তিনি।
  • Link to this news (প্রতিদিন)