ফরাক্কায় বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক নিয়োগের নামে চলছে প্রকাশ্য দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ! যোগ্য কর্মী, সমর্থকদের বঞ্চিত করে দলের নেতৃত্বের একাংশ নিজেদের আত্মীয়স্বজনদের চাকরি পাইয়ে দিচ্ছেন বলে বিস্ফোরক অভিযোগ মুর্শিদাবাদ জেলা সিপিএম নেতৃত্বের একাংশের। এনিয়ে জেলা ও রাজ্য সিপিএম সম্পাদককে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি। যার জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ফরাক্কার সিপিএম নেতৃত্ব। প্রতিবাদে গণহারে দলীয় সদস্যপদ নবীকরণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
এই ‘বিদ্রোহী’ তালিকায় রয়েছেন ফরাক্কা উত্তর এরিয়া কমিটির সদস্য ও বাগদাকড়া ব্রাঞ্চের সম্পাদক তথা ফরাক্কা ব্লক ডিওয়াইএফআই-এর সভাপতি হিমাংশুশেখর সাহা। তাঁর সঙ্গে একই পথে হেঁটেছেন ফরাক্কা এরিয়া কমিটির সদস্য আমিনুল হোসেন মিঞা, দক্ষিণ এরিয়া কমিটির সদস্য ও ফরাক্কা ডিওয়াইএফআইআরের সম্পাদক ফিরোজ জাহাঙ্গির। মহিলা সমিতির সভানেত্রী ও ফরাক্কা ব্যারেজ শাখার সম্পাদিকা মহুয়া সরকার। এছাড়াও পলাশি শাখার সম্পাদিকা সুনন্দা মিশ্র এবং লাল পার্টির সদস্য দেবব্রত সাহা, বিনয় মণ্ডল ও রতন মণ্ডলও সদস্যপদ নবীকরণ করেননি।
তাঁদের মূল অভিযোগ, ফরাক্কার তিনটি বড় শিল্পসংস্থা এখন নেতাদের পৈতৃক সম্পত্তি হয়ে গিয়েছে। কারখানায় নিয়োগ মানেই টাকার খেলা আর নেতাদের বাড়ির লোকের চাকরি। বছরের পর বছর পার্টি করা, আন্দোলন করা কর্মীরা আজ রাস্তায়। আর সদ্য প্রার্টিতে আসা নেতাদের আত্মীয়রা অফিসে! এটা পার্টির আদর্শের সঙ্গে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা। তাঁদের আরও অভিযোগ, এই দুর্নীতির কথা বারবার জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হলেও ইচ্ছাকৃতভাবে তা নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। তাঁরা পার্টি বাঁচানোর জন্য লড়ছেন। কিন্তু নেতৃত্ব দুর্নীতিবাজদের আড়াল করেছে তাই আর এই ভন্ডামির সঙ্গে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া অসম্ভব। এই ঘটনায় মুর্শিদাবাদ জেলা সিপিএম নেতৃত্বের ভিত নড়ে গিয়েছে। প্রকাশ্যে মুখ না খুললেও দলের অন্দরে শুরু হয়েছে তীর দোষারোপের পালা।
জেলা নেতৃত্বের একাংশের দাবি, এভাবে প্রকাশ্যে পার্টির বদনাম হলে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে। তবে পালটা প্রশ্ন, মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে দুর্নীতির জন্য, প্রতিবাদের জন্য নয়। এর মাঝে আগামী ২৩ আগস্ট ফরাক্কা মহেশপুরে ফরাক্কা সিপিএমের সম্মেলন হতে চলেছে। জেলা নেতৃত্ব সেই সম্মেলন থেকে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।