বদলের বাংলায় সৌজন্যের নজির। হালিশহরের নিহত তৃণমূল কর্মীর বাড়ি যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ সেখানে পৌঁছনোর কথা তাঁর। নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। থানাতেও যেতে পারেন তিনি। এদিকে, রবিবার হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের গাড়িতে কাদা ও জুতো হামলার প্রতিবাদে মিছিলের ডাক দিয়েছে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। বিধানসভাতেও প্রতিবাদ করবেন বিধায়করা।
শুক্রবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিরজু কুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত। এলাকায় তোলাবাজি-মারামারির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলেই জানান তদন্তকারীরা। পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারের পর তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। সন্ধ্যায় তাঁর স্ত্রী জেলে দেখাও করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় বিরজু সুস্থই ছিলেন বলে জানান তাঁর স্ত্রী। হালিশহর থানার পুলিশের দাবি, শুক্রবার ভোররাতে ওই যুবককে অসুস্থ অবস্থায় লকআপে পড়ে থাকতে দেখা যায়। কল্যাণী জহরলাল নেহেরু হাসপাতাল নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। যুবকের শরীরের একাধিক জায়গায় হাত-পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও অভিযোগ। পরিবারের আরও অভিযোগ, সকালে হালিশহর থানার পুলিশ কল্যাণী হাসপাতালে বিরজুর দেহ রেখে চলে যায়।
ওই নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রবিবার দুপুরে হালিশহরে যান বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, উপাসনা চৌধুরী। বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জল ও কাদা ছোড়া হয়। জুতোও ছোড়া হয়। ‘চোর ও ডাকাতরানি’ স্লোগানও দেওয়া হয়। এদিকে, হালিশহরের ঘটনায় মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এত চুরি করেছেন, চোর তো শুনতেই হবে।” তাঁর পরামর্শ, “বাড়ির লোক দরজা বন্ধ করে দিচ্ছেন। কিন্তু আপনি বলছেন, জোর করে ঢুকব। এসব করবেন না। আপনার কাছ থেকে সাহায্য, হস্তক্ষেপ চাইলে করুন। এখন উন্নয়নের সময়। কোথাও গিয়ে এমন কিছু করবেন না যাতে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়।” সেই নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন মুখ্যমন্ত্রী।