দেশব্যাপী আইন অমান্য ও ‘জেল ভরো’ কর্মসূচির আঁচে উত্তপ্ত আসানসোল। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের শ্রমিক-কৃষক বিরোধী নীতি, কাজের দাবি, শ্রম কোড বাতিল এবং সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে বামেদের এই অভিযানকে ঘিরে এদিন উত্তেজনা ছড়ায় আসানসোল পুলিশ লাইন সংলগ্ন এলাকায়। আসানসোলের শতাব্দী পার্ক থেকে জিটি রোড ধরে বিশাল মিছিল শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি আটকাতে ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। এরপর আন্দোলনকারী ও পুলিশ দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি শুরু হয়। গ্রেপ্তার করা হয় সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় (Minakshi Mukherjee)-সহ বাম নেতাদের। তাঁদের দুটি বাস ও প্রিজন ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। সোমবার বামেদের কর্মসূচিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বাঁকুড়ার জেলাশাসক দপ্তরও।
এদিন আসানসোলের ভগৎসিং মোড়ে মিছিল পৌঁছতেই পুলিশের বসানো প্রথম ব্যারিকেডটি ভেঙে ফেলে বাম আন্দোলনকারীরা। এরপর পুলিশ লাইনে দ্বিতীয় ব্যারিকেডও ভেঙে এগিয়ে যান আন্দোলনকারীরা। অবশেষে দক্ষিণ পুলিশ ফাঁড়ির কাছে বিশাল বড় পাঁচিলের মতো গড়ে তোলা তৃতীয় ব্যারিকেডের সামনে আটকে যায় মিছিল, যেখানে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী, জলকামান ও দমকল মোতায়েন করে প্রশাসন। এই হাই-ভোল্টেজ কর্মসূচিতে সিপিএম রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায়ের পাশাপাশি সরাসরি নেতৃত্বের ভূমিকায় ছিলেন সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।
ব্যারিকেডের সামনে দাঁড়িয়ে মীনাক্ষী বলেন, “দেশ, দেশের মানুষ ও সংবিধান বাঁচানোর লড়াইয়ে গোটা দেশ জুড়ে শ্রমিক, কৃষক, ক্ষেতমজুর ও বস্তিবাসীদের এই প্রতিবাদ। নরেন্দ্র মোদি ও বর্তমান রাজ্য সরকারের শ্রমিক-কৃষক বিরোধী নীতির ফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ। রেশন থেকে নাম বাদ যাওয়া, হকার উচ্ছেদ, কোলিয়ারি ও স্টিল প্ল্যান্ট বন্ধ হওয়া, বিদ্যুতের বিল বৃদ্ধি থেকে শুরু করে মহিলাদের উপর ক্রমবর্ধমান অত্যাচার—সব মিলিয়ে মানুষের ক্ষোভ আজ চরম সীমায়। পুলিশি পাহারা দিয়ে এই জনরোষ আটকানো যাবে না।” উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই পরবর্তীতে মীনাক্ষী-সহ শীর্ষ বাম নেতাদের পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের দু’টি বাস ও প্রিজন ভ্যানে তুলে থানায় নিয়ে যায়।