মৃতের চোখ আর নষ্ট নয়! ছ’ঘণ্টার মধ্যে সেই চোখ দান করলে দৃষ্টি ফিরে পেতে পারেন অনেকেই। আগামী ২৫ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাজুড়ে শুরু হচ্ছে নেত্রদান সচেতনতা শিবির। তার আগে চক্ষুদান নিয়ে প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে জোরদার প্রচারে রিজিওনাল ইন্সটিটিউট অফ অপথ্যালমোলজি।
একজন মৃত মানুষের চোখ দিয়ে দৃষ্টি ফিরে পেতে পারেন দু’জন। আমজনতাকে তা বোঝাতে কলকাতার ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে নিয়োগ করা হয়েছে কাউন্সিলর। কি তাঁদের কাজ? কারও মৃত্যু হলে তাদের পরিবারের সঙ্গে সত্ত্বর যোগাযোগ করবেন এই কাউন্সিলররা। বুঝিয়ে বলছেন, কেন জরুরি চক্ষুদান। রিজিওনাল ইন্সটিটিউট অফ অফথ্যালমোলজির সহকারী অধ্যাপক ডা. সৌম্যদীপ মজুমদার জানিয়েছেন, মৃত্যুর ছ’ঘণ্টার মধ্যে চোখ নিয়ে নেওয়া উচিৎ। এর জন্য যত দ্রুত সম্ভব নিকটবর্তী চক্ষুব্যাঙ্কে খবর দিন। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে একটি হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছে রিজিওনাল ইন্সটিটিউট অফ অপথ্যালমোলজি। কেউ চোখ দান করতে চান ৯০০৭০ ৬৪৮৩১ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
চোখে আঘাত, অ-পুষ্টি, সংক্রমণ, জন্মগত ত্রুটি অথবা অস্ত্রোপচারের পর কোনও জটিলতার কারণে বঙ্গে অনেকেই কর্নিয়াল দৃষ্টিহীনতার শিকার। মৃত মানুষের কর্নিয়া দিয়ে এই হারিয়ে যাওয়া দৃষ্টি আবার ফিরিয়ে দেওয়া যায়। রিজিওনাল ইন্সটিটিউট অফ অপথ্যালমোলজির ডিরেক্টর ডা. সুব্রত দত্ত বলেন, “মৃত্যুর আগে যদি কেউ নেত্রদানের অঙ্গীকার নাও করে থাকেন তাহলেও কোনও চিন্তা নেই। মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করলেই হবে।” যাঁরা চশমা পরেন, ডায়াবেটিস আছে অথবা উচ্চরক্তচাপের রোগী তাঁরাও দান করতে পারেন চোখ। শর্ত একটাই কর্নিয়া সুস্থ হতে হবে। চিকিৎসক সৌম্যদীপ মজুমদার জানিয়েছেন, চোখ সকলেরই নেওয়া যায়। তবে সকলের চোখ প্রতিস্থাপন করা যায় না। গুরুতর কোনও সংক্রমণের কারণে মৃত্যু হলে। কিম্বা ক্যানসারের জন্য মৃত্যু হলে সেই মৃতের চোখ সাধারণত নেওয়া হয় না। এমন কর্নিয়া অন্যের চোখে বসালে ‘ক্রস ইনফেকশন’ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
একজন মৃত ব্যক্তির কর্নিয়া থেকে দু’জন দৃষ্টি পেতে পারেন। বাড়িতে যদি কেউ মারা যায়, কর্নিয়া সংগ্রহ করতে আসার আগে কিছু নিয়ম মেনে চলতে বলছেন চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞরা। কি সেই নিয়ম? ঘরে সিলিং ফ্যান বন্ধ করে দিতে হবে। ঘরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র থাকলে তা চালিয়ে দিতে হবে। ভেজা তুলো বরফের সঙ্গে মৃত ব্যক্তির বন্ধ চোখে দিয়ে রাখতে হবে। এতে তাজা থাকে কর্নিয়া। মৃত ব্যক্তির মাথার নীচের বালিশ দিয়ে উঁচু করে রাখলে চোখের টিস্যু আদ্র থাকে। মৃত ব্যক্তির চোখ নেওয়ার পর সেখানে নকল চোখ বসিয়ে দেন চক্ষু ব্যাঙ্কের কর্মী।