নেত্রী একজনই! মমতার উপর হামলার প্রতিবাদে কুণালদের সঙ্গে ঋত শিবিরের ৩ বিধায়কও
প্রতিদিন | ১০ আগস্ট ২০২৬
ক্ষমতায় থাকুন আর না থাকুন, প্রতিবাদে সবসময় তিনি পথে থাকেন। আর তাই মনোমালিন্য যতই হোক, নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানছেন ‘আসল’ তৃণমূলের একাংশ। রবিবার হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার প্রতিবাদে সোমবার বিধানসভা চত্বরে দেখা গেল অন্য ছবি। কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়কদের সঙ্গে প্রতিবাদে শামিল ঋতব্রতপন্থী ৩ বিধায়ক! খালেক মোল্লা, তৌসিফুর রহমান, বিভাস সর্দাররাও মমতার উপর হামলা নিয়ে সুর চড়ালেন বিজেপির বিরুদ্ধে। তবে কি ঋতব্রত শিবিরের শক্তিবৃদ্ধির তুলনায় তা কমছে? মাথাচাড়া দিল এই প্রশ্ন।
শুক্রবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিরজু কেওটকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত। এলাকায় তোলাবাজি-মারামারির অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলেই জানান তদন্তকারীরা। পরিবারের দাবি, গ্রেপ্তারের পর তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। সন্ধ্যায় তাঁর স্ত্রী জেলে দেখাও করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় বিরজু সুস্থই ছিলেন বলে জানান তাঁর স্ত্রী। হালিশহর থানার পুলিশের দাবি, শুক্রবার ভোররাতে ওই যুবককে অসুস্থ অবস্থায় লকআপে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর মেলে। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ হেফাজতে বিরজুকে খুন করা হয়েছে। এই খবর পেয়েই রবিবার দুপুরে হালিশহরে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেসময় বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জল ও কাদা ছোড়া হয়। জুতোও ছোড়া হয়। ‘চোর ও ডাকাতরানি’ স্লোগানও দেওয়া হয়। এনিয়ে তৃণমূলনেত্রীর প্রতিক্রিয়া, “আমরা তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। বিজেপি ইট মেরেছে। গাড়ির কী অবস্থা করেছে দেখুন। বাংলা গুন্ডাদের হাতে চলে গিয়েছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর এহেন হামলার প্রতিবাদে আজ বিধানসভা চত্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচি করে কালীঘাট তৃণমূল নেতৃত্ব। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়রা হাতে বিজেপি বিরোধী পোস্টার নিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাতে শামিল হতে দেখা যায় ঋতব্রতপন্থী তিন বিধায়ককে। পোস্টার হাতে মমতার পাশে থেকে বিক্ষোভ দেখালেন খিদিরপুরের বিধায়ক আবদুল খালেক মোল্লা, বসিরহাট উত্তরের তৌসিফুর রহমান, বারুইপুর পূর্বের বিভাস সর্দার। আর এহেন বিরল ছবি নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে কি ঋতব্রত শিবিরে ভাঙন শুরু হয়ে গেল? আরেকাংশের মত ভিন্ন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, আখরুজ্জামানরা আগেই ঘোষণা করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হিসেবে থাকুন। অর্থাৎ তৃণমূলনেত্রীর ‘বাণপ্রস্থ’ তাঁদের কাম্য। স্বভাবতই সেই ডাকে সাড়া দেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে কি ‘পরামর্শদাতা’ মনে করেই তৃণমূল নেত্রীর হামলার প্রতিবাদ দেখালেন ঋতব্রতপন্থীরা?
এদিকে, মমতার উপর হামলার প্রতিবাদে হাজরায় বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূলের আরেক নেতৃত্বে। কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাতে শামিল হন যুবনেত্রী উপাসনা চৌধুরী, যুব তৃণমূলের সভাপতি অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়রাও। কিন্তু শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পুলিশ তাঁদের হঠিয়ে দেয়। আটক করা হয় কয়েকজনকে।