নেতাজির আদর্শে জেন জি-র নতুন দল ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’, মেন্টর প্রপৌত্র চন্দ্র বসু
প্রতিদিন | ১০ আগস্ট ২০২৬
জেন জি-কে মূল চালিকাশক্তি হিসাবে সামনে রেখে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে নতুন রাজনৈতিক দল, ‘আজাদ হিন্দ পার্টি’। যার মেন্টর হিসাবে দায়িত্ব নিতে পারেন নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসু। ১৯৪৩-এর ২১ অক্টোবর, সিঙ্গাপুরে প্রথম ‘আজাদ হিন্দ সরকার’ গঠনের ঘোষণা করেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। তাঁর প্রপৌত্র জানিয়েছেন, নেতাজির আদর্শে তাঁদের এই নতুন দল কাজ শুরু করবে আজাদ হিন্দ সরকার গঠনের সেই তারিখ ২১ অক্টোবর থেকেই। সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মস্থান কটক শহর থেকে এই নতুন রাজনৈতিক দলের সূচনা হবে। সম্ভবত প্রথম কর্মসূচিও হবে সেই শহরে। চন্দ্র বসু ছাড়াও এই দলের সঙ্গে থাকবেন নেতাজি-প্রেমী ও গবেষকদের একটি গোষ্ঠী। তবে রাজনৈতিক দল হিসাবে আত্মপ্রকাশ হোক বা তার কর্মীদের রাজনৈতিক কর্মসূচি, সেখানে প্রধান ভূমিকায় থাকবে জেন জি।
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন চন্দ্র বসু। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে ব্যক্তিগত কারণে এই দলত্যাগ বলে জানিয়েছেন। এর আগে তিনি ছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লকে, তার আগে দীর্ঘ ৭ বছর ছিলেন বিজেপিতে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাত ধরে ২০১৬ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তাঁর আর্জি ছিল, নেতাজির আদর্শে তিনি কাজ করতে চান। কিন্তু তা আর সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য, “বিজেপিতে যখন ছিলাম নেতাজির আদর্শে কিছু করা তখনও সম্ভব হয়নি, আর তৃণমূল এ রাজ্যে হারার পর তাদের সঙ্গে থেকে নতুন করে নেতাজির আদর্শে জাতীয় স্তরে আর কিছু করার নেই। কিন্তু সেই কাজ তো করতেই হবে। তাই নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার ভাবনা।” তার জন্য নির্বাচন কমিশনে নথিভুক্তকরণ, দলের প্রতীক তৈরি সব কাজই এক এক সারা হবে।
চন্দ্র বসু জানাচ্ছেন, নতুন এই রাজনৈতিক দল গড়ার ভাবনা তাঁর আজকের নয়। জাতীয় স্তরে নেতাজির কাজ, তাঁর আদর্শকে পাথেয় করে এক সময় ‘আজাদ হিন্দ মোর্চা’ গড়ে কাজ করতে চেয়েছেন তিনি। বিজেপিতে যোগদানের আগেই সেই ভাবনার কথা তিনি জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে। সেই সময় মোদির সঙ্গে তাঁর কথার প্রসঙ্গ তুলে ধরে চন্দ্র বসুর বক্তব্য, “প্রধানমন্ত্রী সে সময় বলেছিলেন দেশে ১৬০০ রাজনৈতিক দল ইতিমধ্যেই আছে। আরও একটা দল গড়ে কী হবে! তার চেয়ে তাঁদের সঙ্গে থেকেই কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।” তবে প্রধানমন্ত্রী নেতাজি সংক্রান্ত বেশ কিছু ফাইল ডিক্ল্যাসিফাই করেছিলেন বলেই অনেক তথ্য নতুন করে সামনে এসেছে। ফলে সেই ক্রেডিট প্রধানমন্ত্রীর বলেই জানাচ্ছেন চন্দ্রবাবু।
যদিও তাঁর মতে, শুধু গোপন ফাইল সামনে আনা আর তিনি কবে কীভাবে মারা গেলেন এই নিয়ে বিতর্ক করেই চলবে না। নেতাজির আদর্শকে সামনে রেখে কাজ করা উচিত। তাঁর আক্ষেপ, “ধীরে ধীরে বুঝতে পারি বিজেপি শুধুমাত্র নিজেদের আদর্শ নিয়েই কাজ করছে। সেই কারণেই ওই দল ছেড়ে আসতে হয়।” নতুন রাজনৈতিক দল গড়ার সেটাই মূল উদ্দেশ্য তাঁর কাছে। কিন্তু জেন জি কেন? “বর্তমান সময় কোনও তথাকথিত রাজনৈতিক দল নয়, দেশের সিস্টেম, সমস্ত রাজনৈতিক দল, দেশের মানুষ – সবাইকে ধরে একটা ঝাঁকুনি দিতে পারে জেন জি। দিল্লির সাম্প্রতিক আন্দোলন তার দৃষ্টান্ত। আমি মনে করি নেতাজির আদর্শকে সামনে রেখে এই জেন জি বর্তমানে যা কাজ করছে তাতে নেতাজির নামে নতুন দল হলে তাঁরাই সেই দলের মূল চালিকাশক্তি হতে পারবে” – যুক্তি চন্দ্র বসুর। গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ওড়িশা, বাংলার পাশাপাশি দেশের নানা প্রান্তের অল্পবয়সি সুভাষপ্রেমী-গবেষকদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ যোগাযোগ এই কাজে তাঁকে উৎসাহ জোগাচ্ছে বলে জানিয়েছেন চন্দ্রবাবু।