• সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘Hidden Gem’ বা সিক্রেট ট্যুরিস্ট স্পট শেয়ার করা কি অন্যায়?
    এই সময় | ১০ আগস্ট ২০২৬
  • পাহাড়ের কোলে কিংবা সুনীল সমুদ্রের পাড় ঘেঁষে ছোট্ট একটি হোমস্টে। শহুরে কোলাহল ছেড়ে কয়েকটা দিন নিভৃতযাপন করবেন। ঠিক ছিল, এই সময়টুকু শুধু নিজেকেই দেবেন। প্রয়োজন ছা়ড়া কারও ফোনই ধরবেন না। শুধু এই নৈসর্গিক দৃশ্য মুঠোবন্দী ফোনে ধরে না রাখলেই নয়, তাই ছবি-ভিডিয়ো করছেন মাঝে মাঝে। হঠাৎ কী মনে হলো বন্ধুবান্ধবদের দেখাদেখি সেই সব ছবি, ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে গেলেন। ক্যাপশন আর লোকেশন লেখার সময় কেমন যেন ইতস্তত বোধ করতে শুরু করলেন! মনে প্রশ্ন জাগল— ‘এই গোপন ও সুন্দর জায়গাটির জিওট্যাগ (Geotag) কি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া ঠিক হবে? নাকি অতিরিক্ত পর্যটকের ভিড়ে জায়গাটার সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে?’ বর্তমানে বিশ্ব জুড়ে ট্রাভেল ইনফ্লুয়েন্সার এবং পর্যটক মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে বেশ দ্বিধা তৈরি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ভাষায় একে বলা হচ্ছে ‘ডেসটিনেশন গেটকিপিং’ (Destination Gatekeeping)— অর্থাৎ পর্যটনকেন্দ্রের নাম বা লোকেশন গোপন রাখা।

    সহজ কথায় বলতে গেলে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অফবিট কোনও জায়গা বা ‘হিডেন জেম’ (Hidden Gem)-এর সঠিক লোকেশন ট্যাগ না করে তা গোপন রাখাকে গেটকিপিং বলা হয়। পর্যটনশিল্পে জোয়ারের ফলে (Overtourism) ভারতের মানালি, মুসৌরির মতো পাহাড়ি শহর বা বিদেশের বিভিন্ন সমুদ্রসৈকতে ট্রাফিক জ্যাম, প্লাস্টিকের বোতল কিংবা আবর্জনার পাহাড় তৈরি হচ্ছে। ফলে বহু পর্যটকই আর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের পছন্দের জায়গার নাম প্রকাশ করতে চাইছেন না।

    তবে এই বিষয়টি নিয়ে পর্যটকদের মধ্যে স্পষ্ট দু’টি মতামত তৈরি হয়েছে। একদল মনে করছে, অফবিট কোনও জায়গা জনপ্রিয় হলেই প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট আর ক্যানের আবর্জনায় তা ভরে উঠবে। গেটকিপিং অন্তত সাময়িক ভাবে হলেও জায়গাটিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। পরিকাঠামো তৈরি হওয়ার আগেই হঠাৎ হাজার হাজার পর্যটক এসে পৌঁছলে স্থানীয় জীবনযাত্রা ব্যাহত হতে পারে।

    আবার অন্য দলটির মতে, ভারতে এমন বহু প্রান্তিক গ্রাম রয়েছে, যেখানে পর্যটনই রোজগারের একমাত্র উৎস। এ ছাড়া কর্মক্ষেত্র বলতে চাষবাস এবং নিজের বাড়িতে অতিথিদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা। এখন গেটকিপিং-এর ফলে যদি এই লুকনো গ্রামগুলো পর্যটকদের নজরে না আসে, সে ক্ষেত্রে রোজগারের একমাত্র পথও বন্ধ হয়ে যাবে।

    বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, গেটকিপিং একটি সাময়িক বা শর্ট-টার্ম সমাধান। আজ হোক বা কাল, এই লুকনো ঠিকানাগুলো জনসমক্ষে আসবেই। শুধু লোকেশন গোপন করে কোনও জায়গাকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এর আসল সমাধান লুকিয়ে আছে ‘দায়িত্বশীল পর্যটন’ (Responsible Tourism)-এ।

    ১. ডেস্টিনেশন গেটকিপিং (Destination Gatekeeping) কি সত্যিই পরিবেশ রক্ষা করতে পারে?

    – এটি সাময়িক ভাবে স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সঠিক নীতি ও পর্যটকদের সচেতনতা ছাড়া এটি স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।

    ২. সোশ্যাল মিডিয়ায় অচেনা কোনও জায়গার ছবি দেওয়ার সময় কী লেখা উচিত?

    – স্থানটির ইতিহাস, ভৌগলিক অবস্থান, জলবায়ু এবং সংস্কৃতির প্রচার করার পাশাপাশি কী ভাবে দেশের এই রত্নকে আরও যত্নে রাখা যায় তার উপায়ও বাতলে দেওয়া উচিত। যত্রতত্র প্লাস্টিক না ফেলার অনুরোধ এবং স্থানীয়দের সম্মান জানানোর বার্তা পোস্টের ক্যাপশনে দেওয়া উচিত।

    ৩. পরিবেশবান্ধব ভ্রমণের সবচেয়ে সহজ উপায় কী?

    – স্থানীয়দের তৈরি হোমস্টেতে থাকা, স্থানীয় খাবার খাওয়া, প্লাস্টিক বর্জন করা এবং নির্দিষ্ট ট্রেল ছেড়ে যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলা।

  • Link to this news (এই সময়)