রবিবার হালিশহরে পুলিশের হেফাজতে মৃত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট, জুতো ছোড়া হয়। দেওয়া হয় 'চোর চোর' স্লোগান বলে অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে দেখা গেল বিধায়ক তউসিফ রহমান, আব্দুল খালেক মোল্লা ও বিধান সর্দারকে। আর উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ৩ জনই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন।
আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার নিন্দায় প্রথম থেকেই মুখর হয়েছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের বিধায়করা। সেই মতো সোমবার বিধানসভায় ব্যানার হাতে প্রতিবাদ জানান কুণাল ঘোষ, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে ওই ঘটনার প্রতিবাদে সাংবাদিক বৈঠক করেন তাঁরা। সেই সময় বৈঠকে মমতাপন্থীদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বসিরহাটের বিধায়ক তউসিফ রহমান, মেটিয়াবুরুজের বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা ও বারুইপুর-পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দার। পরে বিধানসভা চত্বরে প্রতিবাদী ব্যানার নিয়ে যখন কুণালরা হাঁটছেন, তখনও ঋতব্রত শিবিরের এই ৩ বিধায়কদের দেখা যায়।
ওই সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর গ্রেফতারির নিন্দা করেছেন কুণাল ঘোষ। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, 'যারা হামলা করেছে, তাদের মদত দিয়েছে সরকার। এই সব ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। তাদের চিহ্নিত করতে হবে।' তিনি দাবি করেন, ভয় দেখিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে থামানো যাবে না।
কী বললেন ঋতব্রত শিবিরের বিধায়করা?
২০২৬ -এর ভোটে ভরাডুবির পরই বেকায়দায় পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী হয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সহ ৬৮ জন বিধায়ক। আর সেই দলে ছিলেন এই ৩ বিধায়কও। কিন্তু হঠাৎই ঋতব্রত শিবির ছেড়ে মমতাপন্থীদের দলে দেখা গেল এই ৩ বিধায়ককে। যার ফলে নতুন সমীকরণ তৈরির জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
তবে কেন তাঁরা এই বৈঠকে রয়েছেন, তার জবাব নিজেরাই দিয়েছেন ৩ বিধায়ক। বিভাস সর্দার জানিয়েছেন, আমাদের নেত্রীর উপর আঘাত হয়েছে। তীব্র প্রতিবাদ করছি। মমতার প্রতীকে জিতেছি। তৃণমূলের ৮০ জনেরই এর প্রতিবাদ করা উচিত।
ওদিকে খালেক মোল্লা বলেন, 'নেত্রীর গাড়িতে আঘাত করা হয়েছে। তার তীব্র প্রতিবাদ করছি।' অবশ্য তিনি যে এখনও ঋতব্রতপন্থী, সেটাও জানিয়েছেন। তউসিফ রহমান বলেন, 'যেখানে দিদি, সেখানেই আমি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি না থাকলে ১০টা ভোটও পাব না।'
আর এই ৩ বিধায়কের বক্তব্য সামানে আসার পরই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। এবার ঋতব্রত শিবির ছেড়ে তাঁরা কালীঘাট শিবিরে যোগ দেন কি না, সেটাই দেখার।