স্বাধীনতা দিবসে এই প্রথম লালকেল্লায় গাওয়া হবে বন্দে মাতরম, বিশেষ গুরুত্ব ‘যুব শক্তি’কে
প্রতিদিন | ১১ আগস্ট ২০২৬
এবছর লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে প্রথমবার গাওয়া হবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’। সোমবার এমনটাই জানাল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। চলতি বছরে ‘বন্দে মাতরম’ ১৫০ বছরে পা দিয়েছে। তা উদযাপন করতেই এই সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে, এবারের অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে ‘যুব শক্তি’কে, যা দেশের সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
সোমবার নয়াদিল্লিতে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং। তিনি বলেন, “২০২৬ সালে বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় গানটিকে এই প্রথমবার লালকেল্লা থেকে গাওয়া হবে। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় লক্ষ লক্ষ মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছিল ‘বন্দে মাতরম’। তাই জাতীয় স্তোত্রের দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানে গাওয়া হয় জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’। কিন্তু এবার রীতিতে একটু বদল হচ্ছে। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের আগে গাওয়া হবে জাতীয় গান। তারপর পরিবেশিত হবে জাতীয় সঙ্গীত। বলে রাখা ভালো, কয়েকদিন আগেই ‘বন্দে মাতরম’-এর অপমানকে শাস্তিযোগ্য সংসদে বিল পাস করিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।
এবারের অনুষ্ঠানের মূল বিষয়বস্তু হল ‘যুব শক্তি’। ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের লক্ষ্যে দেশের শিক্ষার্থী ও তরুণ সমাজের অবদান তুলে ধরা হবে। ঘটনাচক্রে, নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে সম্প্রতি দিল্লির বুকে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন হয়েছে। প্রাথমিকভাবে রাজধানীতে বিক্ষোভের সূত্রপাত হলেও পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, তা ছড়িয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের তরুণ সমাজের উদ্দেশে একাধিকবার বার্তা দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। এই পরিস্থিতিতে এবারের লালকেল্লার অনুষ্ঠানে ‘যুব শক্তি’র ভাবনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত বিশ্লেষকদের।
চলতি বছরই জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনের নিয়মবিধি স্থির করেছে কেন্দ্র। জানানো হয়েছে, সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানে, সব স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ পরিবেশনের পরই বাজাতে হবে ‘বন্দে মাতরম’। যে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি উপস্থিতি থাকেন সেখানে তিনি আসা ও যাওয়ার সময় পরিবেশন করতে হবে এই গান। এই গান বাজাতে হবে পদ্ম পুরস্কারের মতো অসামরিক তথা নাগরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানেও। যদিও সিনেমা হলে এই গান বাজানো বাধ্যতামূলক নয়। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবকই পরিবেশন করতে হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত দেশাত্মবোধক গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপিত হচ্ছে। ১৮৭৫ সালে লেখা এই গান প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৮২ সালে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে। ১৮৯৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম এই গান গেয়েছিলেন। ব্রিটিশ-বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে গিয়েছিল ‘বন্দে মাতরম’-এর কথা ও ভাবনা। কংগ্রেস জমানায় জাতীয় গানের মর্যাদা বৃদ্ধির পক্ষে বার বার সওয়াল করে এসছিল বিজেপি।