গরু পাচার মামলায় সিবিআই রাডারে তৃণমূলের প্রাক্তন যুব নেতা বিনয় মিশ্র। ২০২০ সাল নাগাদ মামলার তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা। এরপরই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝে ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুতে অভিষেক ঘনিষ্ঠ এই নেতা গা ঢাকা দেন বলে অভিযোগ। এবার সেই বিনয় মিশ্রর বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়েছে সিবিআইয়ের তরফে। দিল্লির একটি আদালতে এই আবেদন জানানো হয়েছে। আগামী ১৩ আগস্ট এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হতে পারে বলে খবর।
গরু পাচার মামলায় গোড়া থেকে কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি সিবিআইয়ের নজরে ছিলেন বিনয় মিশ্র। সিবিআইয়ের দাবি, গরু পাচারে ২০১৫ থেকে ২০২০ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ কোটি টাকারও বেশি দুর্নীতি হয়। তদন্তে জানা যায়, পাচারের লভ্যাংশের মোটা টাকা প্রভাবশালীদের বিদেশি অ্যাকাউন্টে পাচার হয়েছে বিনয় মিশ্রর মাধ্যমেই। প্রভাবশালীদের ব্যাংকক ও লন্ডনের বেশ কিছু ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর। তদন্তের স্বার্থে একাধিকবার বিনয় মিশ্রকে তলব করা হলেও লাভ হয়নি। কারণ গরু পাচার মামলার তদন্ত সিবিআই শুরু করতেই দেশ ছাড়েন বিনয় মিশ্র। প্রথমে দুবাই, এরপর ভানুয়াতু। এই দ্বীপের বেশ কিছু অংশ কিনে তিনি নাগরিক হিসেবে বসবাস করছেন বলে খবর। এর আগে বিনয় মিশ্রকে ‘পলাতক’ ঘোষণা করে আদালত। জারি হয় রেড কর্নার নোটিসও।
তবে এবার তৃণমূল প্রাক্তন এই যুব নেতাকে নিজেদের হেফাজতে নিতে মরিয়া সিবিআই। আর সেই কারণেই দিল্লির আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। জানা গিয়েছে, সিবিআইয়ের আবেদনে বিনয় মিশ্রকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ নেতা হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ১৩ আগস্ট আদালত কী নির্দেশ দেয় সেদিকেই নজর সবার। শুধু সিবিআই নয়, গরু পাচার মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের নজরেও রয়েছেন বিনয়। গরু পাচার মামলার পাশাপাশি কয়লা পাচার মামলাতেও তাঁর নাম জড়িয়েছে।
এদিকে বিনয় মিশ্র ভানুয়াতু দ্বীপে নেই বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ”বিনয় মিশ্র ভানুয়াতুতে নেই। লন্ডনে আছে। ওখান থেকে বেরিয়ে কোথাও যেতে পারেন।”