দুবাই হত ভারতেরই অংশ! কেন আচমকাই বদলে যায় পরিস্থিতি, পালটে যায় ইতিহাস
প্রতিদিন | ১১ আগস্ট ২০২৬
দুবাই। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং জনবহুল শহর। বিরাট বিরাট আকাশচুম্বীব ইমারত, আধুনিক ঝাঁ চকচকে শপিং মল। প্রাচুর্য ও উন্নতির এক অসামান্য নিদর্শন। জানেন কি, এই শহরটা ভারতেই অবস্থিত হতে পারত! কেবল এই শহরই নয় দোহা এবং ওমানের মতো উপসাগরীয় শহরও এদেশের ভূখণ্ডের সঙ্গেই জুড়ে থাকার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীন হওয়ার সময় উপসাগরীয় অঞ্চল সেখানে সংযুক্ত থাকেনি। অথচ ব্রিটিশ ভারতীয় সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবেই বিংশ শতাব্দীর শুরুর সময় থেকে পরিচালিত হত উপসাগরীয় অঞ্চলগুলি।
বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে পরিস্থিতিটা এরকমই ছিল। সেখানে বৈধ মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হত ভারতীয় টাকা। ভারতের মতোই সেখানেও মোতায়েন ছিল ভারতীয় সেনা। আর এমনটাই ছিল ১৯৪৭ সালের ১ এপ্রিলের আগে পর্যন্ত। ওইদিন থেকেই বিভাজনের প্রাক্কালে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা সিদ্ধান্ত নেন উপসাগরীয় আরব অঞ্চলগুলির দায়িত্ব ভারত-পাকিস্তানকে দেওয়া হবে না। তাই ওই অঞ্চলগুলিকে এদেশের প্রশাসনিক কাঠামো থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে কয়েকমাস পরে যখন ভারত স্বাধীন হল, তখন আর দুবাই-সহ ওই অঞ্চলের কোনও জনপদই ভারতের সঙ্গে যুক্ত থাকল না। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ওই সব অঞ্চল ছিল ব্রিটিশদের অধীনে! ভারতের স্বাধীনতার ঠিক আগে নেওয়া ব্রিটিশ সিংহর সিদ্ধান্তে আবু ধাবি, দুবাই, কাতার, বাহরিন, কুয়েতের মতো শহরগুলো আলাদা উপসাগরীয় ‘স্টেট’ হিসেবেই গড়ে ওঠে। শেষ হয়ে যায় তাদের ভারত বা পাকিস্তানের অংশ হওয়ার সম্ভাবনা।
বলে রাখা ভালো, ব্রিটিশরা যখন ঘোষণা করল তারা এদেশ ছেড়ে চলে যাবে, সেই সময় তৈরি হয়েছিল এক আশঙ্কা! আসলে ভারতে দেশীয় রাজ্য ছিল ৫৬৫টি। তারা সেই অর্থে ব্রিটিশ ভারতের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তবে ব্রিটিশদের বৈদেশিক নীতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু শর্ত তাদের মানতে হত। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে তারা এই দেশের অংশ থাকবে কিনা সংশয় ছিল তা নিয়েই। শেষ পর্যন্ত সেই রাজ্যগুলি যদি স্বাধীন প্রদেশ হিসেবে থাকার সিদ্ধান্ত নিত কিংবা পাকিস্তানের অংশ হয়ে উঠত তাহলে আজ আমরা যে মানচিত্র দেখি, দেশের সেই মানচিত্রই থাকত না। তৈরি হত দেশভাগের আরও ক্ষতবিক্ষত এক রূপ। শেষপর্যন্ত অবশ্য তেমন কিছু হয়নি। তৈরি হয় আজকের আধুনিক ভারতের রূপরেখা।