স্বাধীনতার পর প্রথম আলো! শুভেন্দু আমলে অবশেষে বাড়িতে বিদ্যুৎ এল ধূপগুড়ির ৬ পরিবারে
প্রতিদিন | ১১ আগস্ট ২০২৬
স্বাধীনতার পর প্রথম আলো। বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়ে আনন্দে আপ্লুত জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি (Dhupguri) ব্লকের মাগুরমাড়ি ১ নং পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা ছয় পরিবার। প্রধান সড়ক থেকে বাড়ির দূরত্ব অনেকটা বেশি। সেজন্য বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে দপ্তর থেকে গড়িমসি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আমলে তাঁদের বাড়িতে প্রথম বিদ্যুতের আলো জ্বলল।
জানা গিয়েছে, চারপাশে আলো ঝলমল করলেও কার্যত লণ্ঠন ও কুপি জালিয়ে সন্ধে থেকে রাত কাটাতে হত এই ছয় পরিবারের সদস্যদের। এক পরিবারের সদস্য অনিমা রায় বলেন, “বাচ্চারা লণ্ঠনের আলোয় লেখাপড়া করতো। বহুবার এই নিয়ে আবেদন নিবেদন করেছেন। কিন্তু কোনও কর্ণপাত করেনি।” আর এক পরিবারের সদস্য সুমিত্রা রায় বলেন, “বিগত সরকারের সময়ে একাধিকবার পঞ্চায়েত সদস্য থেকে নিয়ে বিদ্যুৎ দপ্তর সর্বত্র ছোটাছুটি করেছেন। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি।” পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের বক্তব্য, এই জীবনে ঘরে আলো দেখতে পাব এই আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। অবশেষে আলো এলো। এই আনন্দ ব্যক্ত করার ভাষা নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ছয়টি পরিবারে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এলাকার বিজেপির বুথ সভাপতি লিটন ঘোষ। তাঁর দাবি, গত প্রায় ছয় বছর ধরে তিনি বিষয়টি নিয়ে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। অবশেষে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছনোর ফলে এখন থেকে ছয়টি পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনাতেও সুবিধা হবে। সন্ধ্যার পর কুপিবাতি কিংবা অন্য কোনও আলোর উপর নির্ভর করতে হবে না তাঁদের। বিদ্যুতের আলো পৌঁছলেও এই ছয়টি বাড়ির যোগাযোগের রাস্তার অবস্থাও বেহাল। পঞ্চায়েতের তরফে এই নিয়েও আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য শিখা সরকারকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বিজেপি নেতা শিবু রায় বলেন, স্বাধীনতার পর প্রথম আলো পেল। এবার যোগাযোগের রাস্তার জন্যও পদক্ষেপ করবেন তারা। খুশি ছয় পরিবারের সদস্যরা।