কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হতেই দেশছাড়া টুলু! অনুব্রত ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে জারি হুলিয়া
প্রতিদিন | ১১ আগস্ট ২০২৬
মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকার সোনা ও নগদ উদ্ধারের পর থেকেই একের পর এক তল্লাশি, নথি উদ্ধার, জিজ্ঞাসাবাদ আর গ্রেফতারি। বীরভূমের পাথর মাফিয়া টুলু মণ্ডলকে ঘিরে তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই সামনে এসেছে তাঁর বিপুল সম্পত্তি ও আর্থিক সাম্রাজ্যের নানা অজানা তথ্য। অবশেষে সেই তদন্তেই আরও এক বড় পদক্ষেপ। দেশ ছেড়ে ‘পলাতক’ টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারির নির্দেশ দিল আদালত। সোমবার সিউড়ির অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালতে টুলুর বিরুদ্ধে হুলিয়া জারির আবেদন জানান মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা টুলুকে আইনের আওতায় আনতে এই পদক্ষেপ জরুরি বলে আদালতে সওয়াল করা হয়। এরপরই সোমবার সন্ধ্যায় হুলিয়া জারির নির্দেশ দেয় আদালত। আদালতের নির্দেশ, আগামী ১৪ আগস্টের মধ্যে হুলিয়া জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পরও তিনি পলাতক থাকলে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলে, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় হুলিয়া জারির পদক্ষেপ করা যায়। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতের সামনে আত্মসমর্পণ বা হাজির হওয়ার জন্য প্রকাশ্যে জানানো হয়। টুলুর ক্ষেত্রেও এখন সেই পথেই এগোচ্ছে তদন্ত। তাঁর বাড়ি বা সংশ্লিষ্ট এলাকায় হুলিয়ার নোটিস টাঙানো হতে পারে। সম্ভাব্য আত্মগোপনের জায়গাতেও নোটিস দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মতো ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
অর্থাৎ এতদিন টুলুকে খুঁজছিল পুলিশ। এবার টুলুকে প্রকাশ্যে আইনের আওতায় আসার জন্য চাপ তৈরি করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গেল। আইনজীবী ও আদালত সূত্রে জানা যাচ্ছে, হুলিয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সময়সীমার মধ্যেও যদি অভিযুক্ত হাজির না হন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপের রাস্তা খুলতে পারে। এক্ষেত্রে তদন্তকারীদের নজর থাকবে টুলুর সম্ভাব্য অবস্থান এবং তাঁর আর্থিক সম্পত্তির উপরও। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ এবং মামলার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার মতো আইনি পদক্ষেপও হতে পারে।
এমনকি সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে জারি হতে পারে রেড কর্নার নোটিসও। তবে রেড কর্নার নোটিস জারি এভাবে হয় না। তার জন্য আলাদা আইনি প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন লাগে। টুলুর ক্ষেত্রেও পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে আদালতের নির্দেশ এবং তদন্তের অগ্রগতির উপর। তদন্তকারীদের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ এখন টুলুর অবস্থান। তিনি যদি দেশের বাইরে থেকে থাকেন, তাহলে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতীয় আইন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হতে পারে। বিশেষ করে যে দেশগুলির সঙ্গে ভারতের প্রত্যর্পণ চুক্তি বা সংশ্লিষ্ট আইনি ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযুক্তকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিতে পারে। তবে কোনও বিদেশি দেশে গ্রেপ্তার বা প্রত্যর্পণ সেই দেশের আইন ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার উপরও নির্ভরশীল। ফলে বিদেশের মাটিতে বসে আইনের নাগাল থেকে দূরে থাকার যে চেষ্টা, তা কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার। কারণ তদন্তকারীদের লক্ষ্য একটাই—টুলুকে খুঁজে বের করা, তাঁর আর্থিক সাম্রাজ্যের উৎসের হদিস পাওয়া এবং তাঁকে আইনের মুখোমুখি দাঁড় করানো।