‘ব্লগার অভিজিৎ রায়ের মতো হবে’, বাংলাদেশ থেকে ঋতব্রতকে লাগাতার প্রাণনাশের হুমকি! নেপথ্যে জঙ্গিযোগ?
প্রতিদিন | ১১ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ থেকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে লাগাতার হুমকি ফোন! গত কয়েক মাসে একাধিকবার হোয়াটসঅ্য়াপে কলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাকি বাংলাদেশের মুক্তমনা ব্লগার অভিজিৎ রায়ের মতো পরিণতি হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতদিন চুপ থাকলেও এবার পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন ‘আসল তৃণমূলে’র বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামিকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার তিনি কলকাতা পুলিশে লিখিত অভিযোগ জানাবেন বলে খবর। ঘটনার নেপথ্যে বা কারা? জঙ্গি গোষ্ঠী নয় তো? এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সম্প্রতি বাংলা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য হামিম মণ্ডল ও তার ২ শাগরেদ। তারপরই জানা গিয়েছে, তাঁদের টার্গেট ছিল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অনুষ্ঠান, যাত্রাপথ এমনকী কলকাতার বাড়িও রেইকি করেছিল জঙ্গিরা। লক্ষ্য ছিল তাঁর নিরাপত্তার ফাঁকফোকড় বুঝে নেওয়া। নির্দেশ আসছিল পাকিস্তান থেকে। এসবের মাঝেই এবার টার্গেট ‘আসল তৃণমূলে’র বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, গত ৩ মে থেকে ৯ অগাস্ট পর্যন্ত একাধিকবার হুমকি ফোন এসেছে তাঁর কাছে। প্রতিবারই নম্বর ছিল বাংলাদেশের।
জানা গিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ কলে ঋতব্রতকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মুক্তমনা ব্লগার অভিজিৎ রায়ের মতো পরিণতি হবে। প্রথমদিকে বিষয়টাকে বিশেষ গুরুত্ব দেননি ঋতব্রত। তবে লাগাতার হুমকি ফোনে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার কলকাতা পুলিশে এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে অমর একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে মুক্তমনা ব্লগার অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে খুন করা হয়। তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাও গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে প্রমাণিত হয় ঘটনার নেপথ্যে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্যরা। সম্প্রতি কলকাতার বুকে তসলিমা নাসরিনের মুখে শোনা গিয়েছিল সেই অভিজিতের কথা। তবে কী ঋতব্রতকে হুমকির নেপথ্যেও সেই আনসার আল ইসলাম? উঠছে প্রশ্ন।