জমি-বাড়ি দখল করেছেন রেখা পাত্র! বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীকে নালিশ কেশবানন্দ মহারাজের
প্রতিদিন | ১১ আগস্ট ২০২৬
দুর্নীতি-তোলাবাজি, জবরদখলের অভিযোগ এলে ‘জিরো টলারেন্স’-এর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিকে বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্রের বিরুদ্ধেই জমি-বাড়ি দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। হিঙ্গলগঞ্জে স্বামী কেশবানন্দ মহারাজের ওই বাড়ি ভোটের সময় ভাড়া নিয়েছিলেন রেখা। ভোট মিটে যাওয়ার এত মাস পরেও ওই বাড়ি ছাড়া হচ্ছে না! ভাড়াও দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ। উপায় না দেখে বিজেপি বিধায়কের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীকে নালিশ জানিয়েছেন কেশবানন্দ মহারাজ। আজ, সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে এসে ওই অভিযোগ জানানো হয়েছে।
কেশবানন্দ মহারাজের অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটের প্রচারে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের লেবুখালিতে তাঁর বাড়ির ১২টি ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন রেখা পাত্র। মার্চ মাস থেকে ওই বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়। কিন্তু এত মাস হয়ে গেলেও এখনও অবধি মাত্র দু’মাসের ভাড়া দেওয়া হয়েছে! ভোটে জিতে বিধায়ক হয়েছেন রেখা। নির্বাচন হয়ে গেলেও তিনি ওই বাড়ি ছাড়ছেন না! অভিযোগকারী নিজেকে বিজেপি সমর্থক বলেই দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘রেখা পাত্র আমার জমিটাকে দখল করে রেখেছেন। বাড়িটাকেও দখল করে রেখেছেন। চার বিঘে জমির উপর তিনতলা বাড়ি-কেশবানন্দ প্যালেস।”
অভিযোগ, মার্চ মাস থেকে রেখা পাত্র ওই বাড়িতেই আছেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীও ওই বাড়িতেই ছিল। কেশবানন্দ মহারাজের কথায়, “আমি বিজেপির সমর্থক। তাই ওনাকে বাড়িটা দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রথম দু’মাস, মার্চ-এপ্রিল ভাড়া দেওয়ার পর, ৩ মাস হয়ে গেল আর কোনও ভাড়া দেননি। বাড়িটা ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় কেনার কথা ছিল, কিন্তু সেটাও কিনছেন না। ভাড়াও দিচ্ছেন না। উলটে দুর্ব্যবহার করছেন। তাই সমাধানের আশায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এসেছি।” যদিও অভিযোগ মানতে চাননি বিধায়ক। তিনি বলেন, “আমার পা ভেঙে যাওয়ার জন্য বেশ কয়েক মাস বিধানসভায় যেতে পারিনি। তাই কাগজপত্র জমা করতে পারিনি, সেই কারণে আমার মাইনে ঢোকেনি। আমি ওই মহারাজকে বলেছিলাম সঠিক সময়ে আপনি টাকা পেয়ে যাবেন। আমার মাইনে চালু হলেই আমি সেখান থেকে আপনাকে টাকা দিয়ে দেব। উনি আমাকে অপমানিত করার জন্য এই মিথ্যা কথা রটিয়েছেন।”
অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানাতে এদিন জনতার দরবারে হাজির হয়েছিলেন পাঁচজন মহিলা। তাঁদের অভিযোগ, হাওড়ার কোনা এক্সপ্রেসওয়ের উপর প্রায় ২২ কাঠা জমি জোর করে দখল করে নেওয়া হয়েছে। ভয় দেখিয়ে এবং হুমকি দিয়ে জমি দখল করা হয়েছে। জমি ফেরত পাওয়ার দাবিতে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন তাঁরা।