সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বাম জমানার একেবারে শেষ দিকে কুমারগ্রামের বারোবিশায় করা হয়েছিল একটি শিল্পতালুক। সেই সময় এটি গড়ে তুলতে কয়েক কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। বাম শাসনের অবসানের পর তৃণমূলের ১৫ বছরের জমানায় লস্করপাড়ায় ১২ বিঘা জমির ওপর সরকারি এই শিল্পতালুকের তালা খোলেনি। কুমারগ্রাম রোডের এই শিল্পতালুকের তালা খুলতে এবার উদ্যোগী হলেন স্থানীয় বিধায়ক তথা বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ।
বর্তমানে ঝোপঝাড়ে ঢেকে যাওয়া শিল্পতালুকটি সমাজবিরোধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। বাম আমলে কুমারগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির তৎকালীন সভাপতি বীরেন্দ্রকিশোর সরকারের উদ্যোগে শিল্পতালুকটি গড়ে উঠেছিল। একাধিক বিল্ডিং ও স্টল তৈরি করা হয়েছিল। প্রতিটি বিল্ডিংয়ের ছাদে পানীয় জলের ট্যাংক বসানো হয়েছিল। চারপাশে প্রাচীর ও পণ্য পরিবহণের জন্য পিচের রাস্তাও করা হয়েছিল। কিন্তু, দীর্ঘ বছর ধরে তা অব্যবহৃত অবস্থাতেই পড়ে আছে। জরাজীর্ণ দশা এখন বিল্ডিং ও স্টলের। সন্ধ্যা নামলে অসামাজিক কাজের আসর বসে।
কুমারগ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি বীরেন্দ্রবাবু আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের সরকার চলে যাওয়ার পর এটির এমন হাল হবে ভাবতেই পারিনি। ১৫ বছরে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতি এটি পূর্ণমাত্রায় চালু করার গরজ দেখায়নি। কোটি কোটি সরকারি টাকার সম্পত্তি পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। রাজ্যে সরকার বদল হয়েছে। দেখা যাক, নতুন সরকার শিল্পতালুকটি নিয়ে কী করে।
রবিবার আলিপুরদুয়ারে একটি সরকারি অনুষ্ঠানের ফাঁকে বনমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল আমলে আমি বিধায়ক থাকার সময় শিল্পতালুকটি চালুর জন্য বিধানসভায় একাধিকবার সরব হয়েছিলাম। কিন্তু, কাজ হয়নি। এবার রাজ্যে আমাদের সরকার হয়েছে। শিল্পতালুকের তালা খোলার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আমরা এটি নতুনভাবে চালু করব।