• খরা কাটিয়ে ইলিশে ভরপুর দীঘার মোহনা
    বর্তমান | ১১ আগস্ট ২০২৬
  • সৌমিত্র দাস, কাঁথি: ইলিশের গন্ধে ম ম করছে দীঘা মোহনা। গত পাঁচ-ছ’দিনে দীঘা সহ বিভিন্ন মৎস্যবন্দর ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে সমুদ্রে যাওয়া মৎস্যজীবীদের জালে ২০০ টনের কাছাকাছি রুপোলি শস্য উঠেছে। রবিবারই ৩০ টনের বেশি ইলিশ ধরা পড়েছে। মাছ ধরার মরশুমের শুরুতে ইলিশের খরা ছিল। মাঝেমধ্যে কমবেশি জালে উঠছিল। এই প্রথম এতবেশি ইলিশ উঠল। দীঘা মোহনার মৎস্য নিলাম কেন্দ্রের চতুর্দিকে এখন ইলিশ আর ইলিশ। স্বাভাবিকভাবেই খুশি মৎস্যজীবী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা। 

    গত কয়েকবছর বড্ড কৃপণ ছিল দীঘার সমুদ্র। এবার অনেক বেশি উদার। সাগর দু’হাত উপুড় করে ইলিশ দিচ্ছে বলে মৎস্যজীবী ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের বক্তব্য। এবার আবহাওয়াও ইলিশ শিকারে অনুকূল। মূলত ঝিরঝিরে বৃষ্টি আর পূবালী হাওয়া ইলিশ ধরার পক্ষে সহায়ক পরিবেশ। শ্রাবণের শেষের দিকে সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মৎস্যজীবীদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ উঠতে শুরু করেছে। তাতে মৎস্য নিলাম কেন্দ্রের মৎস্যজীবী, ট্রলার-লঞ্চের মালিক, মৎস্য ব্যবসায়ীদের মুখে চওড়া হাসি। জোগান বাড়ায় দামও সামান্য হলেও কমেছে। ভোজনরসিক ইলিশপ্রিয় বাঙালিদের পাতেও ইলিশ উঠতে শুরু করেছে।  দীঘা ছাড়াও কাঁথি, রামনগর, বালিসাই সহ বিভিন্ন মাছের বাজার ইলিশে ভরপুর। বহু মানুষ ইলিশ কিনতে বাজারে ছুটছেন। 

    মোহনা মার্কেট সূত্রে খবর, গত কয়েকদিনে সমুদ্রে মৎস্যশিকারে যাওয়া ট্রলার-লঞ্চগুলি একে একে করে শঙ্করপুর, পেটুয়াঘাট, শৌলা মৎস্যবন্দরগুলিতে ফিরতে শুরু করেছে। প্রতিটি ট্রলার ফিরছে এক থেকে দেড় টন ইলিশ নিয়ে। এখনও বহু ট্রলার-লঞ্চ সমুদ্রে রয়েছে। সেগুলি ফিরলে আরও ইলিশের পরিমাণ আরও বাড়বে বলেই জানাচ্ছেন  মৎস্যজীবীরা। তবে, এত পরিমাণ ইলিশ উঠলেও দামে খুব একটা হেরফের হয়নি। রবিবার  মোহনার নিলাম কেন্দ্রের বাজারে ৪০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৯০০-৯৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। ৭০০ থেকে ৮০০-৯০০ কিংবা এক কেজি ওজনের ইলিশ ১১০০-১১৫০ বা ১২০০ টাকা দর ছিল। এক কেজির উপরে কিংবা ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৩০০-১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি দেদার বিকোচ্ছে খোকা ইলিশও। সেগুলির এক-একটির ওজন একশো থেকে দেড়শো কিংবা তারও বেশি। দাম পড়ছে ৫০০-৬০০ টাকা কেজি। মধ্যবিত্তরা বড় সাইজের ইলিশের দামের আঁচ সইতে না পেরে খোকা ইলিশেই মন ভরাচ্ছেন। দীঘা ফিশারমেন অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, ‘গত কয়েক বছরে এই সময়টা আশানুরূপ ইলিশ ওঠেনি। এবার ছবিটা অন্যরকম। আগামী কয়েকদিন যদি শ্রাবণের ঝিরঝিরে বৃষ্টির সঙ্গে পুবালী বাতাস  চলতে থাকে, তাহলে ইলিশের আগমন আরও বাড়বে বলেই আমরা মনে করছি। দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই আসবে।’ -নিজস্ব চিত্র  
  • Link to this news (বর্তমান)