• বোলপুরের সোনাঝুরিতে টুলু-ঘনিষ্ঠদের গোপন ঠিকানা, আটক তিন
    বর্তমান | ১১ আগস্ট ২০২৬
  • সংবাদদাতা, বোলপুর : সোনাঝুরির জঙ্গলের পিছনে একটি বাড়িতে হানা দিয়ে টুলু মণ্ডল-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তিন জনকে আটক করল শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ। বুধবার সকালে অভিযান চালিয়ে একটি দামি গাড়িও আটক করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও পুলিশের তরফে এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনাঝুরি জঙ্গলের পিছনে ওই বাড়িতে বেশ কিছুদিন ধরেই থাকছিলেন তিনজন। এলাকায় তাঁদের টুলু মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিতি রয়েছে। এদিন আচমকাই বাড়িটিতে হানা দেয় পুলিশ। শুরু হয় তল্লাশি। সেখান থেকেই তিন জনকে আটক করা হয় বলে জানা গিয়েছে। এরই মধ্যে নজরে আসে আরও একটি গাড়ি। তল্লাশি চালানো বাড়িটির ঠিক উল্টো দিকে একটি ঘেরা জায়গায় বেশ কয়েক মাস ধরে পড়ে ছিল দামি গাড়িটি। সূত্রের দাবি, গাড়িটি টুলু মণ্ডলের শ্যালক মহম্মদ শামসুর আলমের। দীর্ঘদিন ধরে সেটি ওই জায়গায় পড়ে রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

    এদিকে বীরভূমের বহুচর্চিত পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডল এখনও অধরা। এরই মধ্যে আড়ালে থেকেই গত সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। নিজের নিরাপত্তা এবং আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতে মামলা করার অনুমতি চেয়েছিলেন টুলুর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। গত বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বিষয়টি উত্থাপন করা হলে মামলা দায়েরের অনুমতি দেন বিচারপতি। চলতি সপ্তাহেই মামলাটির শুনানি হতে পারে বলে জানানো হয়।  সম্প্রতি বীরভূমের মহম্মদবাজার থানার দেউচা এলাকায় টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার হয় নগদ প্রায় ২৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা এবং প্রায় ১৫ কেজি সোনা। বিপুল পরিমাণ নগদ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। এই ঘটনার পর বীরভূম জেলা পুলিশের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়। ওই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে টুলু মণ্ডলের নাম রয়েছে। তবে টাকা ও সোনা উদ্ধারের পর থেকেই তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। পুলিশের তদন্ত যখন চলছে, তখনই সেই মামলায় হাইকোর্টে রক্ষাকবচ চেয়ে আবেদন করার উদ্যোগ নিলেন টুলু। এখন আদালত তাঁর আবেদনে কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর তদন্তকারী মহলের।
  • Link to this news (বর্তমান)