হাইওয়েতে টোটো-ভ্যান নিষিদ্ধ হতে হাওড়ায় কঠোর পুলিশ, সরল স্ট্যান্ড, নিয়ম না মানলেই খুলে দেওয়া হচ্ছে চাকার হাওয়া
বর্তমান | ১১ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জাতীয় সড়ক, রাজ্য সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ই-রিকশ ও টোটো চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজ্য পরিবহণ দপ্তর। নির্দেশ অমান্য করলে কড়া আইনি পদক্ষেপ করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশিকার পরেই ‘টোটো শহর’ হাওড়ায় শুরু হয়েছে পুলিশি কড়াকড়ি। রবিবার থেকে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক সংলগ্ন সলপ, কোনা মোড়, অঙ্কুরহাটি ও রানিহাটি এলাকায় তৎপরতা বাড়িয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। জাতীয় সড়ক এবং তার সার্ভিস রোডে গজিয়ে ওঠা অস্থায়ী টোটো স্ট্যান্ড সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এতদিন ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের কোনা, সলপ এলাকা, বিশেষ করে পাকুড়িয়া ব্রিজের উপরেও কার্যত দাপিয়ে বেড়াত টোটো ও পণ্যবাহী তিনচাকার ভ্যান। অলিগলি বা সার্ভিস রোড থেকে আচমকা জাতীয় সড়কে উঠে পড়া, হাইওয়ে পারাপার করা থেকে শুরু করে পাকুড়িয়া ব্রিজের উপর যাত্রী তোলা-নামানো, সবই চলত বলে অভিযোগ। শুধু যাত্রী নয়, ভারী মালপত্র বোঝাই করেও টোটো ও প্যাডেল ভ্যানকে ব্রিজে উঠতে দেখা যেত। ফলে দ্রুতগতির গাড়ির সামনে আচমকা টোটো চলে আসায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ত। স্থানীয়দের দাবি, প্রায়ই ছোটো-বড়ো দুর্ঘটনা ঘটত। সেই পরিস্থিতি সামলাতে এবার কড়া হাতে নামল পুলিশ। কোনা ও সলপ এলাকায় জাতীয় সড়কে চলা টোটো ও মালবাহী ভ্যান সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মভঙ্গকারী কয়েকটি গাড়ির চাকার হাওয়া খুলে দেওয়া হয়। সার্ভিস রোডে গজিয়ে ওঠা অস্থায়ী টোটো স্ট্যান্ডগুলিও সরিয়ে দেওয়া হয়। পাকুড়িয়া ব্রিজের উপর দিনের পর দিন চলা অস্থায়ী টোটো স্ট্যান্ডও তুলে দিয়েছে পুলিশ।
ট্রাকচালক পাপ্পু সিং এবং দূরপাল্লার বাসের চালক সোনা প্রধানের কথায়, ‘হাইওয়েতে গাড়ির গতি বেশি থাকে। আচমকা গলি বা সার্ভিস রোড থেকে জাতীয় সড়কে টোটো উঠে এলে বিপদ বাড়ে।’ তাঁদের দাবি, সরকারি নির্দেশ কঠোরভাবে কার্যকর করা হোক। অন্যদিকে, স্থানীয় টোটোচালক মকবুল শেখ, রুস্তম শেখ ও আনোয়ার হোসেনের দাবি, একাধিক মালিকের ৬-৭টি করে টোটো থাকায় টোটোর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তাঁদের দাবি, একজনের হাতে একটি টোটো রাখার নিয়ম করা হোক। তবে হাইওয়েতে টোটো না চালানোর সরকারি নির্দেশ তাঁরা মানবেন বলেই জানিয়েছেন। জেলা পরিবহণ দপ্তরের এক আধিকারিক জানান, টোটোকে ‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি’-র মাধ্যম হিসাবেই রাখতে হবে। হাইওয়েতে উঠলে ১৯৮৮ সালের মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্ট অনুযায়ী নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।