সরকারি কর্মী নিয়োগে স্টাফ সিলেকশন কমিশনকে আবার সক্রিয় করার ভাবনা
বর্তমান | ১১ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে সরকারি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে স্টাফ সিলেকশন কমিশনকে (এসএসসি) ফের সক্রিয় করতে চাইছে সরকার। সরকারি সূত্রের খবর, আগামী দিনে এসএসসির ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে খুব শীঘ্রই কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হতে পারে। সরকারি ক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগের জন্য পূর্বতন জমানায় এসএসসি গঠন করা হয়। সংস্থাটি তৃণমূল সরকারই মাঝে গুটিয়ে ফেলে। কিন্তু কয়েকবছর পরে সংস্থাটিকে ফের কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয় বিবেক সহায়কে। ময়ূখ ভবনে চালু করা হয় কমিশনের নতুন অফিস। কিছু কর্মীকেও ডেপুটেশনে আনা হয় সেখানে। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় নিয়োগ সংক্রান্ত কাজকর্ম শুরুই করতে পারেনি এসএসসি। রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হলেও বিবেক সহায় ওই পদেই রয়েছেন। অন্যদিকে, সম্প্রতি পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছে অনিল ভার্মাকে। কিছু সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মী ও অফিসার নিয়োগের দায়িত্ব মূলত পিএসসির। বাম জমানারও এক পর্বে সরকারি অফিসে গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগেরও দায়িত্ব এই সংস্থাকে দেওয়া হয়। তৃণমূল আমলে সরকারি দপ্তরে গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগের জন্য একটি বোর্ড গঠন করা হয়। তার মাধ্যমে একবার নিয়োগও হয়েছিল। পরে অবশ্য বোর্ডটিকেই তুলে দেয় মমতার সরকার।
সরকারি সূত্রের খবর, সরকারি দপ্তরে গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব স্টাফ সিলেকশন কমিশনকে দেওয়া হতে পারে। সরকারি আর্থিক সাহায্যে পরিচালিত কিছু প্রতিষ্ঠানের গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগেরও দায়িত্ব এই কমিশন পেতে পারে। পূর্বতন সরকার একবার এসএসসির মাধ্যমে গ্রুপ সি কর্মী (এলডিএ) নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া চলাকালেই এসএসসি বিলোপের সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল সরকার। ওই পরিস্থিতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাকি অংশ পরিচালনা করে পিএসসি।
গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব থেকে পিএসসি মুক্ত হলে কিছু সুবিধা আছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে পারবে এসএসসি। সংশ্লিষ্ট মহল এমনটাই মনে করছে। পিএসসি সেক্ষেত্রে গ্রুপ এ এবং বি পদে নিয়োগেই মনোনিবেশ করবে। ডব্লুবিসিএস, মিসলেনিয়াস প্রভৃতি নিয়োগ পরীক্ষাই নেবে তারা।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, ‘সরকারি ক্ষেত্রে যাবতীয় নিয়োগ হবে পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গেই। নিয়োগ সংস্থাগুলিতে কোনো রাজনৈতিক লোকজন থাকবেন না।’ পুরোদমে কাজ চালানোর জন্য স্টাফ সিলেকশন কমিশনে চেয়ারম্যানের পাশাপাশি কয়েকজন সদস্য থাকবেন। তাঁরাও মূলত প্রশাসনিক আধিকারিক হবেন বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।