• ব্যাঁটরায় তোলাবাজি, প্রাক্তন কাউন্সিলারকে গ্রেপ্তারের দাবি
    বর্তমান | ১১ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রাক্তন কাউন্সিলারকে গ্রেপ্তারের দাবিতে পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাওড়ার ব্যাঁটরা এলাকায়। রবিবার সকালেই ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলা, পাওয়ার হাউস সহ বিভিন্ন জায়গায় একাধিক পোস্টার চোখে পড়ে। পোস্টারে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলার মৌসুমি ঘোষকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। পোস্টারে তাঁকে ‘স্কোয়ার ফুট রানি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বহুতল বা ফ্ল্যাট নির্মাণের ক্ষেত্রে স্কোয়ার ফুট হিসাবে টাকা তোলার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এমন মন্তব্য বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

    কে বা কারা এই পোস্টার লাগিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পোস্টারের নীচে অবশ্য ‘সাধারণ নাগরিকবৃন্দ’ লেখা রয়েছে। বিষয়টিকে ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, দিনের পর দিন বেআইনিভাবে পুকুর বুজিয়ে বহুতল ও ফ্ল্যাট নির্মাণ হয়েছে। শুধু কাউন্সিলার নয়, তৃণমূলের তৎকালীন নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধেও প্রোমোটারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বেআইনি নির্মাণে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রীতিমতো স্কোয়ার ফুট পিছু প্রোমোটারদের কাছ থেকে ফ্ল্যাট কিংবা দোকান তৈরির ক্ষেত্রে কাটমানি নেওয়া হত বলে দাবি। পুলিশ-প্রশাসনের নজরের সামনেই এসব হয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। এই পোস্টার নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণে সরব হয়েছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূল আমলের ‘লাগামহীন দুর্নীতি’ নিয়ে মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই বীতশ্রদ্ধ। ঘাসফুলের বিদায়ের পর সেই ক্ষোভ বিভিন্নভাবে প্রকাশ্যে আসছে। ইতিমধ্যেই দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগে তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রী, কাউন্সিলার, প্রাক্তন কাউন্সিলার, পঞ্চায়েত সদস্য ও প্রধান সহ একাধিক ব্যক্তির গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গও টেনে আনে বিজেপি।

    অন্যদিকে, মৌসুমি ঘোষের দাবি, তিনি দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার। তবে পোস্টার বা অভিযোগের ঘটনায় তিনি বিচলিত নন বলেই জানিয়েছেন। পাওয়ার হাউস এলাকার বাসিন্দা দেবদত্ত চক্রবর্তী, সন্দীপ প্রামাণিকরা বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি দমনে পুলিশ-প্রশাসন তৎপর হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ আদৌ বন্ধ হবে কি না এবং বর্তমান প্রশাসনের কঠোর মনোভাব কতদিন বজায় থাকে, সেটাই এখন দেখার।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)