ডাঙায় পা দেন না। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার সামা-বাজাউ জনগোষ্ঠীর মানুষের বাস জলেই। ছোট ডিঙি বা নৌকার উপরেই কাটে তাঁদের জীবন। তবে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ১৭ বছরের কিশোর ইকবাল শেখকে বেজায় চিন্তায় পাড়ার লোকজন। সেও জল থেকে উঠতে নারাজ। তবে তিনি কোনও কিছুর উপরে ভেসে নয়, সরাসরি পুকুরের জলে ভেসে দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা থানার কাপাসডাঙা এলাকার বাসিন্দা ওই কিশোর। বাড়িতে রয়েছেন তাঁর মা কামিরণ বিবি। বিড়ি বেঁধে কোনওমতে সংসার চালান। স্থানীয় সূত্রে খবর, বছর পাঁচেক আগে থেকেই ইকবাল এলাকার বিভিন্ন পুকুরে জলে ভেসে সময় কাটাতেন। সম্প্রতি এলাকারই একটি পুকুরে গত সাতদিন ধরে রয়েছে ইকবাল। কোনওভাবে বুঝিয়ে তাকে ডাঙায় তোলা যাচ্ছে না। তার মা জানান, মানা করলেও শুনছে না। বাড়িতে আটকে রাখা যাচ্ছে না।
এ দিকে, টানা প্রায় সাতদিন ধরে পুকুরের জলে পড়ে থাকায় ইকবালের হাত-পা সাদা হতে শুরু করেছে। শরীরও অসুস্থ। সর্দি-কাশিতে ভুগছে ইকবাল। স্থানীয় বাসিন্দারা চিড়ে-বিস্কুট বা খাবার দিলে তা খেয়েই জলে ভেসে থাকে সে। আশেপাশের এলাকার বাসিন্দারা ওই পুকুরের ধারে ভিড় জমাচ্ছে তাকে দেখার জন্য।
ইকবালের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তার বাবা হাসিবুর শেখ এক বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন। পরিবারে শুধু তার মা রোজগেরে। মানসিক সমস্যা থাকার কারণে বহরমপুর মানসিক হাসপাতালে ইকবালের কিছুদিন চিকিৎসাও হয়। চিকিৎসার কোনও সামর্থ্য না থাকায় ইকবালের মা বড় হাসপাতালে ছেলেকে ভর্তি করতে পারেননি। স্থানীয় বাসিন্দারা ইকবালের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কায় স্থানীয় বিধায়ক ভরত কুমার ঝাওর ও প্রশাসনের কাছে তার দ্রুত উন্নত চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।