এই সময়, নাগরাকাটা: কুর্তি নদীর উপর বাঁশের সাঁকো ভাঙা ঘিরে উত্তেজনা। গ্রামবাসীদের সঙ্গে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন ভাঙতে আসা শ্রমিকরা। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায় মাটিয়ালি ব্লকের বিধাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়দিঘি বস্তি এলাকায়।
কুর্তি নদীর উপরে থাকা বাঁশের অস্থায়ী সাঁকোটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। ২০১৯-এ এলাকার একটি বেসরকারি রিসর্ট কর্তৃপক্ষ গ্রামবাসীদের দাবিমতো সাঁকোটি তৈরি করেন। প্রতিদিন বাগানের প্রায় ৩০০ জন শ্রমিক এই সাঁকো ব্যবহার করেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। কিন্তু প্রশাসনের নির্দেশে সোমবার রিসর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন ওই সাঁকো ভাঙতে যান। খবর পেয়ে বাগানের শ্রমিক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এসে বাধা দেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন।
তাঁদের দাবি, সাঁকোটি ভেঙে দিলে বিকল্প রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে তাঁদের প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার ঘুরপথে যেতে হবে। দু'পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতি আরম্ভ হয়। শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের বাধার মুখে সাঁকো ভাঙা বন্ধ করে দিতে হয়।
চা-বাগানের শ্রমিক ঊষা ওরাওঁ এবং লাইলি বেগম বলেন, 'এই সাঁকোর উপর দিয়েই আমরা প্রতিদিন চা-বাগানে কাজে যাই। হঠাৎ করে সাঁকো ভাঙতে আসা হয়েছে। সাঁকো ভেঙে দিলে আমরা কাজে যেতে পারব না। তাই আমরা এই সাঁকো ভাঙতে দেব না।' জানা গিয়েছে, গত ৭তারিখ মালবাজার প্রশাসনের পক্ষ থেকে রিসর্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে এই অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। কারণ, প্রশাসনের মতে, সাঁকোটি অবৈধ। রিসর্ট মালিক শেখ জিয়াউর রহমান বলেন, 'প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী সাঁকো ভাঙতে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাগানের শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেন। পুরো বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হবে।'