• নেতাজির চিতাভস্ম দেশে ফেরানো হবে? কন্যা অনিতার মামলায় কেন্দ্রের অবস্থান জানতে চাইল সুপ্রিম কোর্ট
    এই সময় | ১১ আগস্ট ২০২৬
  • সুভাষচন্দ্র বসুকে এক বার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন বিষয়কে সবচেয়ে বেশি ভয় পান ও ঘৃণা করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘নির্বাসনে থাকা।’ এই কথাটি স্মরণ করিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নেতাজির চিতাভস্ম ভারতে ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়ে আসছেন কন্যা অনিতা বসু পাফ। তিনি সুপ্রিম কোর্টেও মামলা করেছেন। সেই মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য জানতে চাইল শীর্ষ আদালত।

    জাপান থেকে নেতাজির চিতাভস্ম নিয়ে এসে ভারতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান, এই মর্মে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন অনিতা। মঙ্গলবার আদালতে তাঁর হয়ে সওয়াল করেছেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান জানতে চেয়ে নোটিস জারি করেছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ।

    প্রায় প্রতি বছরই নেতাজির জন্মদিবসে তাঁর চিতাভস্ম দেশে ফেরানোর আবেদন করে থাকেন অনিতা। এ বছরের ২৩ জানুয়ারিও জার্মানি থেকে অনিতা লিখেছিলেন, ভারত স্বাধীন হওয়ার ৭৮ বছর পরেও সুভাষচন্দ্র বসুর পার্থিব অবশেষ মাতৃভূমিতে ফেরানো সম্ভব হয়নি। তা এখনও ‘নির্বাসিত’ অবস্থায় রয়েছে। অনিতা মনে করিয়ে দেন, টোকিয়োতে বসবাসকারী ভারতীয়দের অনুরোধে রেনকোজি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত নেতাজির পার্থিব অবশেষ ‘কয়েক মাসের জন্য’ নিরাপদে সংরক্ষণ করতে সম্মত হয়েছিলেন। তার পরে ৮০ বছরেরও বেশি অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছে।

    তবে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখনও নানা মত রয়েছে। অনেকেরই বিশ্বাস, ১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট জাপানের একটি সেনাক্ষেত্রে (অধুনা তাইওয়ানের তাইহোকুতে) সামরিক মহড়া চলাকালীন বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান সুভাষচন্দ্র। তাঁর ‘চিতাভস্ম’ বর্তমানে জাপানের রেনকোজির একটি বৌদ্ধ মন্দিরে রাখা রয়েছে। অনিতা আগেই বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন নেতাজির পরিবারের অনেকেরও বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়ে ধন্দ ছিল। কিন্তু এখন ওই দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু নিয়ে বেশির ভাগ নথি এবং অন্তত ১১টি তদন্ত রিপোর্ট হাতে এসেছে। তাই তাইহোকুতে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু মেনে নেওয়াই উচিত।’ ওই চিতাভস্ম যে সুভাষেরই, তা প্রমাণে ডিএনএ নমুনা দিয়ে সাহায্য করতে তাঁর অঙ্গীকারের কথাও বলেছিলেন অনিতা।

  • Link to this news (এই সময়)