• আবার ফাইল খুলছে আরজি করের, নির্যাতিতার বাবার নতুন FIR, নাম পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়কের
    এই সময় | ১১ আগস্ট ২০২৬
  • মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আরজি কর মামলায় নতুন করে তদন্ত শুরু। রবিবারই পানিহাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, নতুন করে তদন্ত হবে। বিশেষ করে দেহ সৎকারে কারা মদত দিয়েছিল, সেই বিষয়ে কড়া নজর দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই এ বার নতুন FIR দায়ের হলো। নির্যাতিতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ-সহ তিন জনের নামে মামলা রুজু করল ব্যারাকপুর কমিশনারেট। নির্মল ছাড়াও নাম রয়েছে সোমনাথ দে, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের। নতুন FIR-এ অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, তথ্যপ্রমাণ লোপাট এবং জোরপূর্বক কাজ করানোর মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।

    নতুন অভিযোগে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ২০২৪ সালের ৯ অগস্ট নিহত চিকিৎসকের মরদেহ দ্রুত দাহ করে দেওয়ার ঘটনা। মৃতের বাবার অভিযোগ, ময়নাতদন্তের পরে মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দ্রুত শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এই ঘটনা নিয়েও পৃথক তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিযোগে প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোমনাথ দে এবং প্রাক্তন কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

    পরিবারের অভিযোগ, কয়েকজন দলীয় কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ওই তিন জন তাঁদের বাড়িতে এসে দ্রুত মরদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেন। শ্রদ্ধা জানানোর জন্য পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। এমনকী অপেক্ষায় থাকা অন্য মরদেহের আগে ডাক্তারি পড়ুয়ার দাহকার্য সম্পন্ন করা হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন মৃত চিকিৎসকের বাবা।

    দাহকার্যের প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের নিজেদের হাতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পূরণ বা সই করার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। পরে সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি ঘাট সংক্রান্ত নথিতে তথ্যদাতা হিসেবে সই করেছিলেন বলে জানতে পারেন তাঁরা।

    দ্রুত দাহকার্যের পিছনে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের সম্ভাবনা আটকানো কিংবা তথ্যপ্রমাণ নষ্ট বা গোপন করার কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিয়েও অভিযোগে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি, দাহকার্যের সময়ে পরিবারের কাছ থেকে কোনও খরচ নেওয়া হয়নি কেন, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, খড়দহ থানায় বিএনএস-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। নতুন তদন্তে দাহকার্যের সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা, শ্মশানের নথিপত্র তৈরির প্রক্রিয়া এবং দ্রুত দাহ সম্পন্ন হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে ওই সময়ে শ্মশানে উপস্থিত কর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে তদন্তকারী দল।

  • Link to this news (এই সময়)