• ৩% থেকে ৫%! বাড়তে পারে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ১১ আগস্ট ২০২৬
  • একটি বড় জল্পনা তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে। এই কমিশন কর্মচারীদের বেতন ও সুবিধা নিয়ে বড় পরিবর্তন আনতে চায়। বর্তমানে কর্মচারীরা বছরে ৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পান। কিন্তু এখন এটি ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া নূন্যতম বেতন নির্ধারণে পারিবারিক সদস্য সংখ্যার পরিমাপ ৩.৫ থেকে বাড়িয়ে ৫ জন করার কথা ভাবা হচ্ছে।

    পেনশনারদের জন্য কম্যুটেড পেনশনের সময় কমিয়ে ১১ বছর করার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পেনশন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করার কথা বলা হচ্ছে।

    কেন্দ্র ও রাজ্যের বেতন কাঠামোর মধ্যে বৈষম্য দূর করার চেষ্তা করা হচ্ছে। এর জন্য একটি নতুন ফর্মুলা প্রস্তাব করা হচ্ছে মহার্ঘ ভাতার জন্য। কেন্দ্রের মতো রাজ্যেও হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স ও ট্রান্সপোর্ট অ্যালাউন্স দেওয়া যেতে পারে।

    পদোন্নতির সুযোগ বাড়ানোর জন্য নতুন নীতি নেওয়া হচ্ছে। কর্মজীবনের ৫, ৮, ১২, ১৮ এবং ২৪ বছর পূর্ণ হলে প্রমোশন পাওয়া যাবে। এছাড়া কর্মীদের চিকিৎসার জন্য ক্যাশলেস সুবিধা দেওয়া হবে।

    কেন্দ্রীয় সরকারের অষ্টম বেতন কমিশন কার্যকর হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম দিন থেকে এটি কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের বেতন সংশোধন করা হবে।

    সপ্তম বেতন কমিশন নিজেদের প্রস্তাব জমা দিল না কিনা, কতটা ইনল্যান্ড স্যালারি বাড়তে চলেছে, এমনই নানা তথ্য জানার জন্য রাজ্যের সরকারি কর্মীরা এখনও সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই তথ্য সংগ্রহ করেন। সেই তথ্য আদৌ সত্যি কিনা তা নিয়ে ধন্দও থাকে বিস্তর। তবে সোমবার এই সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হয়েছে কমিশন। এবার নিজেদের কাজকর্ম ও সরকারি তথ্য প্রকাশের জন্য একটি পৃথক ওয়েবসাইট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সপ্তম বেতন কমিশন কমিটি।  নবান্নে কমিশনের প্রথম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    কমিশনের শীর্ষ এক আধিকারিক জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই ওয়েবসাইটটি চালু করা হবে। সেটিতে সরকারি বিজ্ঞপ্তি, কাজের অগ্রগতি, বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও স্মারকলিপি জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। এর মাধ্যমে কমিশন সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য একটি নির্দিষ্ট এবং অনুমোদিত উৎস থেকে পাওয়া যাবে।

    এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছাড়াও কমিশন জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত বেতন, ভাতা বা পেনশন নিয়ে কোনও সুপারিশ তাঁরা সরকারের কাছে করেনি। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন নথি বা তথ্যের উপর নির্ভর না করার জন্য সরকারি কর্মী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক করা হয়েছে। এদিনের বৈঠকে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা, সংস্থা, কর্পোরেশন ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি কমিশনের কাজের সামগ্রিক রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)