‘ইতিহাস ওঁকে সম্মানের সঙ্গে মনে রাখবে’, কয়লা কাণ্ডে ‘কলঙ্কমুক্ত’ মনমোহনকে নিয়ে আবেগী সোনিয়া
প্রতিদিন | ১১ আগস্ট ২০২৬
“সমকালীন সংবাদমাধ্যম ও বিরোধীদের থেকে ইতিহাস আমার প্রতি অনেক সহৃদয় হবে।” ২০১৪ সালের ৩ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন শেষ সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই বলেছিলেন ডঃ মনমোহন সিং। তাঁর মৃত্যুর দু’বছর পর ইতিহাস তাঁর উপর সদয় হয়েছে! কয়লা কেলেঙ্কারির অভিযোগ থেকে সম্প্রতি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীকে রেহাই দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই প্রসঙ্গেই মুখ এবার মুখ খুললেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi)। বললেন, “ইতিহাস ওঁকে সম্মানের সঙ্গে মনে রাখবে।”
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে লেখা একটি প্রতিবেদনে সোনিয়া জানিয়েছেন, বছরের পর বছর ধরে চলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের পর অবশেষে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীর সততা ও নিষ্ঠা পর্যন্ত প্রমাণিত হয়েছে। তিনি বলেন, “তাঁর বিরুদ্ধে এই মিথ্যা প্রচারটি ছিল সুসংহত ও সুপরিকল্পিত। দেশের আমলাতন্ত্র থেকে শুরু করে গণমাধ্যম, বিচার বিভাগ, সুশীল সমাজ এবং নিশ্চিতভাবেই আরএসএস ও বিজেপির মতো বিভিন্ন পক্ষ জড়িত ছিল। আজ তাদের সেই ভিত্তিহীন প্রচারের পরিণতি সবার সামনে চলে এসেছে। প্রতিটি অভিযোগেই ডঃ সিং নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।” সোনিয়ার সংযোজন, “২০২৬ সালের ২৯ জুলাই তারিখটি আমাদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল। এদিন সুপ্রিম কোর্ট সিবিআইয়ের সিদ্ধান্ত মেনে কয়লা কেলেঙ্কারিতে ডঃ মনমোহন সিংকে ক্লিন চিট দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন তিনি।” কংগ্রেস নেত্রী বলেন, “ইতিহাস সত্যিই তাঁকে একজন শান্ত-নম্র, অথচ অসামান্য প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শ্রদ্ধার সঙ্গে মনে রাখবে।” সোনিয়ার বক্তব্য, নরেন্দ্র মোদি সরকারের কাজের পদ্ধতির সঙ্গে মনমোহন সিংয়ের আমলের কাজের পদ্ধতির আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে অপব্যবহার করছে।
২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রিত্বের শেষ দিকে এসে কোলব্লক কেলেঙ্কারি বা কোলগেট কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত হন ডঃ সিং। সে সময় ওড়িশার তালাবিরা-তে অবৈধভাবে কোলব্লক বণ্টনের অভিযোগ ওঠে তৎকালীন ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বেশ কিছু কোলব্লক বণ্টন বাতিল করা হয়। মনমোহন সিংয়ের সরকারের বিরুদ্ধে বেনিয়মের অভিযোগ তুলে হল্লা শুরু করে বিরোধীরা। তৎকালীন কয়লামন্ত্রী, সরকারের একাধিক আমলা অভিযুক্ত হন। এমনকী অভিযোগের তির চলে যায় সোজা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের দিকে। সেই কয়লা কেলেঙ্কারিতেই মনমোহন সিংকে রেহাই দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
জীবিত থাকাকালীন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর গায়ে দুর্নীতির একমাত্র দাগ ছিল এই কয়লা কেলেঙ্কারি। এর বাইরে আর কোনও দুর্নীতিতে সরাসরি অভিযুক্ত ছিলেন না মনমোহন। একমাত্র কোলগেট কেলেঙ্কারিতেই তাঁকে অভিযুক্ত হিসাবে তলব করেছিল নিম্ন আদালত। কিন্তু পরে সিবিআই তদন্ত করতে গিয়ে জানায়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে অভিযুক্ত হিসাবে দেখানোর মতো উপযুক্ত প্রমাণ মিলছে না। শেষমেশ ক্লোজার রিপোর্টে মনমোহনকে অভিযুক্ত হিসাবে দেখায়নি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাতেই মান্যতা দিয়েছে শীর্ষ আদালত।