• কেউ নিখোঁজ হলেই বয়স-লিঙ্গ নির্বিশেষে FIR দায়ের করে তদন্ত শুরু করতে হবে, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
    এই সময় | ১১ আগস্ট ২০২৬
  • কেউ নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়ে পরিবারের লোক যদি পুলিশের দ্বারস্থ হন, তা হলে নিখোঁজ ব্যক্তির বয়স এবং লিঙ্গ নির্বিশেষে সঙ্গে সঙ্গেই এফআইআর দায়ের করতে হবে। মঙ্গলবার দেশের সব ক’টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পুলিশকে এই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। মামলার পরবর্তী শুনানি ৫ অক্টোবর।

    মঙ্গলবার বিচারপতি এহসানুদ্দিন আমানুল্লা এবং বিচারপতি আর মহাদেবনের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। মানব পাচার এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বার করার ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ করা যেতে পারে, তা মূল্যায়ন করতে গিয়েই এই নির্দেশ দেওয়া হয়। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করা হলে পুলিশের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা হতে পারে।

    বিচারপতিরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নিখোঁজদের খুঁজে বার করার ক্ষেত্রে আদালত আগে যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা যে কেবল শিশুদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, বিষয়টি আদৌ সেই রকম নয়। সব ধরনের বয়সের মানুষ এবং সব লিঙ্গের মানুষকে নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এফআইআর দায়ের করতে হবে। আদালত দেখেছে, আগের নির্দেশে উল্লিখিত ‘ব্যক্তি’ শব্দটি স্রেফ শিশুদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলেই ধরে নিয়েছে বেশ কিছু রাজ্য। তার প্রেক্ষিতে আদালত বলেছে, ‘আমরা অত্যন্ত অবাক হয়েছি যে, কিছু রাজ্য মনে করছে ব্যক্তি বলতে কেবল শিশুদেরই বোঝায়। প্রাপ্তবয়স্কদের নয়। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অজুহাত বলে মনে করছি। আমাদের নির্দেশের ভাষা একদম স্পষ্ট। ব্যক্তি শব্দের অর্থ যে কোনও ব্যক্তি। বয়স এবং লিঙ্গ নির্বিশেষে সকলেই।’

    পূর্ববর্তী নির্দেশ উল্লেখ করে আদালত জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশকে অতি সতর্কতার সঙ্গে অনুসন্ধান শুরু করে দিতে হবে। নিখোঁজ হওয়ার পরে প্রথম কয়েক ঘণ্টা হলো ‘গোল্ডেন আওয়ার্স’। সেই সময়ে নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত বা নিরাপদে উদ্ধারের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। পরিবার বা অভিভাবকদের নিজেদের মতো করে আগে খোঁজ করতে বলা বা প্রাথমিক তদন্তের অজুহাতে সময় নষ্ট করা যাবে না বলেও পুলিশকে জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এ-ও বলেছে, নিখোঁজ ডায়েরিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারার পাশাপাশি পাচার সংক্রান্ত অন্য ধারাও যুক্ত করতে হবে। যদি পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ মেলে তদন্তে, তা হলে চার মাস অপেক্ষা না করে অবিলম্বে তদন্তভার মানব পাচার রোখার বিশেষ ইউনিটে (এএইচটিইউ) পাঠাতে হবে।

    আদালত জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তি উদ্ধার হওয়ার পরে পরিচয় যাচাইয়ের কাজ শেষ করেই অবিলম্বে তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দিতে হবে। আর যদি পাচারের ঘটনায় পরিবারের কোনও সদস্য জড়িত থাকেন, সে ক্ষেত্রে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তি উদ্ধারের পরে তাঁর দায়িত্বভার আপাতত সরকার নেবে।

    আদালতের আগের নির্দেশ মেনে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, অনেক রাজ্যই সেই সংক্রান্ত হলফনামা জমা না দেওয়ায় অসন্তোষও প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, যে সব রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এই নির্দেশ পালনে ব্যর্থ, সেই সব রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং ডিজির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার নোটিস জারি করা হবে। কেন তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানাতে তাঁদের সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)