• ফুকেট-দিল্লি এয়ার ইন্ডিয়ার পাইলটের দ্বিতীয় ডোপ টেস্টেও রিপোর্ট ‘পজিটিভ’, এ বার কী পদক্ষেপ?
    এই সময় | ১১ আগস্ট ২০২৬
  • ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 উড়ানে ঘটা বিপত্তির কারণে ডোপ টেস্টের মুখে পড়েছিলেন দুই পাইলট। এতে মুখ্য পাইলটের প্রাথমিক রিপোর্ট পজ়িটিভ আসার পরে দ্বিতীয় বার ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। মঙ্গলবার সেই চূড়ান্ত রিপোর্টেও পজ়িটিভ এসেছে বলে সূত্রের খবর। ফলে গত ৪ অগস্ট আচমকা ফ্লাইটের উচ্চতা মাঝআকাশে প্রায় ৩০০ ফুট কমে যাওয়ার ঘটনার তদন্তে এল নয়া মোড়।

    রবিবার ফুকেট থেকে দিল্লিগামী AI2379-এর পাইলট-ইন-কমান্ডের প্রাথমিক মাদক পরীক্ষার ফল ‘not negative’ আসায় নমুনা নিশ্চিত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেই কনফার্মে পরীক্ষাতেও পজ়িটিভ ফল আসায় খবরে পুরো বিষয়টি নতুন মাত্রা পেল।

    তবে পরীক্ষায় ঠিক কোন সাইকো অ্যাকটিভ সাবস্টেনস (psychoactive substance) পাওয়া গিয়েছে, তা এখনও প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। পাশাপাশি, পাইলট কোনও নিষিদ্ধ পদার্থ ইচ্ছাকৃত ভাবে গ্রহণ করেছিলেন কি না, সেটিও এই মুহূর্তে নিশ্চিত নয়। তদন্তকারী সংস্থাগুলি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

    গত ৪ অগস্ট থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার AI2379 উড়ান। বিমানটিতে ছিলেন ১৩৭ জন যাত্রী এবং ৮ জন ক্রু সদস্য। আচমকাই মাঝআকাশে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায়। সেই ঘটনার আকস্মিকতায় এবং ওই পড়ে যাওয়ার সময়ে বিমান বেশ কয়েক বার ডিগবাজি খাওয়ায় ক্রু ও যাত্রী মিলিয়ে ১৭ জন আহত হয়েছিলেন। অভিজ্ঞ পাইলটদের একাংশের দাবি, অনেক সময়ে আকাশে এক হাজার উপর দিয়ে তুলনায় বড় কোনও বিমান গেলে হাওয়ার ঢেউ তৈরি হয়। তার প্রভাবে ছোট বিমান (এ ক্ষেত্রে এয়ারবাস ৩২০) ও ভাবে ওলটপালট খেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নীচে নেমে আসতে পারে। এই ঘটনার পিছনে প্রাথমিক ভাবে খারাপ আবহাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। যদিও সরকারি নথির কোথাও ‘টার্বুল্যান্স’ শব্দটি নেই।

    Confirmatory test পজিটিভ আসার খবর সত্য হলে পাইলটের বিরুদ্ধে DGCA কী ব্যবস্থা নেয়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে পরীক্ষায় পাওয়া পদার্থের সঙ্গে বিমানের আচমকা উচ্চতা হারানোর কোনও সম্পর্ক ছিল, তা হলে ঘটনাটি ভারতের বিমান নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও বড় প্রশ্ন তৈরি করবে। এই মুহূর্তে অবশ্য সরকারি ভাবে পাইলটের পরীক্ষায় কোন পদার্থ পাওয়া গিয়েছে বা সেটি বিমানটির ৩০০ ফুট উচ্চতা হারানোর সঙ্গে যুক্ত ছিল কি না, তা জানানো হয়নি।

    সূত্রের দাবি, পাইলট-ইন-কমান্ডের প্রথম পরীক্ষায় ‘not negative’ ফল আসার পরে confirmatory laboratory test করা হয়। সেই দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও পজিটিভ ফল এসেছে বলে জানা গিয়েছে।

    ৪ অগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী Air India AI2379 মাঝআকাশে আচমকাই প্রায় ৩০০ ফুট নীচে নেমে যায়। ঘটনায় যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ১৭ জন আহত হন।

    বিমানটিতে ১৩৭ জন যাত্রী এবং ৮ জন ক্রু সদস্য ছিলেন।

    পাইলট-ইন-কমান্ডের psychoactive substance screening-এর ফল ‘not negative’ এসেছিল। এটি সরাসরি চূড়ান্ত পজিটিভ ফল নয়, তবে সন্দেহজনক ফল হওয়ায় নমুনা আরও নির্ভুল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

    প্রাথমিক screening-এ সন্দেহজনক ফল এলে নমুনা আরও নির্ভুল confirmatory laboratory test-এ পাঠানো হয়। এর মাধ্যমে প্রাথমিক পরীক্ষার ফল নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।

    এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কোন নির্দিষ্ট psychoactive substance পাওয়া গিয়েছে, তা জানানো হয়নি। তাই এই বিষয়ে নিশ্চিত কোনও দাবি করা যাচ্ছে না।

    প্রাথমিক পরীক্ষার ফল সামনে আসার পর দুই পাইলটকেই উড়ানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা flight roster-এ নেই বলেও জানা গিয়েছে।

    ঘটনাটিকে গুরুতর হিসেবে চিহ্নিত করে Aircraft Accident Investigation Bureau (AAIB) তদন্ত করছে। বিমানের Flight Data Recorder (FDR) এবং Cockpit Voice Recorder (CVR)-ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

    ঘটনার সঠিক কারণ এখনও তদন্তাধীন। প্রাথমিক ভাবে খারাপ আবহাওয়া বা বায়ুপ্রবাহের প্রভাবের কথা উঠে এলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কারণ বলা যাচ্ছে না।

    এটি তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য। তবে শুধু টেস্টের ফলের ভিত্তিতে মাঝআকাশে বিমান ৩০০ ফুট নীচে নেমে যাওয়ার কারণ নির্ধারণ করা যাবে না। FDR, CVR, আবহাওয়া, বিমানের পরিস্থিতি এবং অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে এই রিপোর্ট মিলিয়ে তদন্ত করতে হবে।

  • Link to this news (এই সময়)