শহিদ ক্ষুদিরাম বসুকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে জনরোষের মুখে পড়লেন কেশপুরের তৃণমূল বিধায়ক শিউলি সাহা। মঞ্চে তাঁর নাম ঘোষণা করতেই উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। চলল চিৎকার চেঁচামেচি। শেষ পর্যন্ত আর মঞ্চে উঠতে পারেননি তিনি। মঙ্গলবার কেশপুরের মোহবনিতে ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে এই নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি শিউলি।
এ দিন ফাঁসির মঞ্চে প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু। তাঁর আত্মবলিদানকে স্মরণ করতে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। আমন্ত্রিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিশিষ্ট অতিথিরা। সেই অনুষ্ঠানেই যোগ দেন শিউলি। রাজ্যে পালাবদলের পরে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে নাম লিখিয়েছেন তিনি। তার পরেও বিক্ষোভ এড়াতে পারলেন না।
এ দিন মঞ্চে এক এক করে অতিথিদের নাম ঘোষণা হচ্ছিল। তখনও মুখ্যমন্ত্রী এসে পৌঁছননি। শিউলির নাম শুনতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শকদের একাংশ। তৃণমূল বিধায়কের নাম ধরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন তাঁরা। এক মহিলা উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলতে শুরু করেন, ‘আমার ছেলে বিজেপি করত বলে অনেক অত্যাচার করেছে। ধর্ষণের মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছিল।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘যাঁর বিরুদ্ধে এত অভিযোগ, তাঁকে কেন সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চে ডাকা হবে?’ তাঁর সঙ্গে যোগ দেন আরও অনেকে।
মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সভাস্থল। তবে বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছনোর আগেই পরিস্থিতি সামলে দেন তাঁরা। তবে বিক্ষোভ, স্লোগানের পরে আর মঞ্চে ওঠেননি শিউলি। জানা গিয়েছে, তিনি কিছুক্ষণ মোহবনিতেই ছিলেন। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
উল্লেখ্য, গত জুনে কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিউলি। সেখানে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাপক সমালোচনাও করেছিলেন তিনি। আগের সরকারের আমলে বিধায়কদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হতো না বলেও অভিযোগ করেছিলেন। তবে এ দিন বিক্ষোভের ঘটনা নিয়ে এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন: কোথায় শিউলি সাহাকে ঘিরে বিক্ষোভ হয়?
উত্তর: মঙ্গলবার কেশপুরের মোহবনিতে ক্ষুদিরাম বসুর আত্মবলিদান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় শিউলি সাহাকে ঘিরে বিক্ষোভ হয়।
প্রশ্ন: কেন শিউলি সাহার বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে?
উত্তর: মঞ্চে তাঁর নাম ঘোষণা হতেই দর্শকাসনের একাংশ ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, শিউলি সাহার বিরুদ্ধে অতীতে নানা ধরনের অভিযোগ রয়েছে।
প্রশ্ন: বিক্ষোভকারীদের কী অভিযোগ?
উত্তর: এক মহিলার দাবি, তাঁর ছেলে বিজেপি করতেন বলে শিউলি সাহা তাঁদের উপর অত্যাচার করেছিলেন এবং তাঁর ছেলেকে ধর্ষণের মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি।
প্রশ্ন: শিউলি সাহা কি মঞ্চে উঠেছিলেন?
উত্তর: না। বিক্ষোভ ও স্লোগানের পর শেষ পর্যন্ত তিনি মঞ্চে ওঠেননি। কিছুক্ষণ মোহবনিতে থাকার পর সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গিয়েছে।
প্রশ্ন: পুলিশ কী করেছিল?
উত্তর: বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
প্রশ্ন: মুখ্যমন্ত্রী কি তখন সভাস্থলে ছিলেন?
উত্তর: বিক্ষোভের সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এখনও সভাস্থলে পৌঁছননি। তাঁর আসার আগেই পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়।
প্রশ্ন: শিউলি সাহা কি ঘটনার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেছেন?
উত্তর: এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন: শিউলি সাহা সম্প্রতি আর কী কারণে চর্চায় ছিলেন?
উত্তর: গত জুনে কোলাঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করেছিলেন শিউলি। আগের সরকারের আমলে বিধায়কদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হত না বলেও তিনি অভিযোগ করেছিলেন।