সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় বিস্ফোরক তথ্য! নিজেদের মা-মাটি-মানুষের দল হিসাবে পরিচয় দেওয়া তৃণমূল স্রেফ ২১৫ জন কর্মীর বেতন বাবদ মাসিক খরচ করে ৫১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকারও বেশি। এছাড়া দলের ১৭টি অফিসের জন্য প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ খরচ হয় ১ কোটি টাকা। এর বাইরেও বিপুল খরচ রয়েছে তৃণমূলের। নিরাপত্তারক্ষী, বিভিন্ন এজেন্সির কর্মীদের বেতন এবং গাড়িভাড়া বাবদ মাসে কোটি কোটি টাকা বেরিয়ে যায় তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে এই তথ্য দিয়েছে কালীঘাট তৃণমূল নিজেই। সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছে বিচারপতি এমএম সুন্দরেশের বেঞ্চে। শুনানিতে পার্টি চালাতে মাসিক খরচের খতিয়ান তুলে ধরেন মমতা শিবিরের আইনজীবী কপিল সিব্বল। সেখানেই তিনি জানান, দলের বিভিন্ন বিভাগের ২১৫ জন স্থায়ী কর্মীর বেতন ৫১ লক্ষ টাকার বেশি। এর বাইরে ভাড়া বাবদ আরও কোটি কোটি টাকা মাসে বেরিয়ে যায়। দলের দৈনন্দিন কাজ চালানোর জন্য এই খরচগুলি প্রয়োজন বলে সওয়ালের সময় খরচের খতিয়ান তুলে ধরেন সিব্বাল। এই খরচগুলি চালাতেই তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া উচিত বলে তাঁর দাবি।
যদিও ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে কালীঘাট তৃণমূলের এখনও পর্যন্ত ৪২টি অ্যাকাউন্টের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৬টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ রয়েছে। যে অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করা নেই, সেগুলি থেকে খরচ চালানো যেতে পারে। ইডির আইনজীবী এসভি রাজু আদালতে দাবি করেন, স্রেফ দুটি অ্যাকাউন্টেই অন্তত ১২০ কোটি টাকা রয়েছে তৃণমূলের। সেই অ্যাকাউন্টগুলিও ব্যবহার করা যেতে পারে।
শুনানি শেষে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় হাই কোর্টের রায়ে হস্তক্ষেপ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, কালীঘাট তৃণমূল দৈনন্দিন খরচের জন্য টাকা তুলতে পারবে। তবে কলকাতা হাই কোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারকেই খরচের হিসাব দিতে হবে। তবে সেসবের মাঝেই চর্চায় তৃণমূলের বিপুল খরচের বহর। একটা আঞ্চলিক দল যে এত টাকা খরচ করে দল চালায়, এই বিপুল টাকার উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।