ব্রিকসের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সফরেও তারেককে আমন্ত্রণ! হাসিনা-হাদি নিয়ে মন্তব্য দিল্লির
প্রতিদিন | ১২ আগস্ট ২০২৬
আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনের যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। মঙ্গলবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানালেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ঢাকা-দিল্লি বর্তমান নরম-গরম সমীকরণের মধ্যে এই সংবাদ তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও তারেক ভারতে আসবেন কি না, তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
দিল্লি হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় এবং ভারতের মাটিতে বসে সাংবাদিক বৈঠক করায় চটেছে বাংলাদেশ। এই বিষয়ে নিজেদের অলস্থানও স্পষ্ট করেছে ঢাকা। যদিও অন্য়ান্য ক্ষেত্রে প্রতিবেশী উভয় দেশ সুসম্পর্কের বার্তাই দিয়েছে ইদানীংকালে। দিল্লির তরফে জানানো হয়েছে, দিল্লিতে আসন্ন ব্রিক্স সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য অনেক আগেই তারেককে আমন্ত্রণ করেছে দিল্লি। সেই আমন্ত্রণের প্রাপ্তিস্বীকারও করেছে ঢাকা। যদিও তারেকের দিল্লি সফরে আসছেন কিনা, এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি বাংলাদেশ সরকার।
জানা গিয়েছে, সোমবার ঢাকায় তারেকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী। মঙ্গলবার এই বিষয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন,“আমরা ব্রিকস আউটরিচ সেশনের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্যও (তারেককে) আমন্ত্রণ জানিয়েছি।” এদিকে ‘প্রথম আলো’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার তারেক-দীনেশ বৈঠকে হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং বাংলাদেশি ছাত্রনেতা ওসমান হাদির খুনের ঘটনায় জড়িতদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়েও কথা হয়েছে। এই বিষয়ে জয়সওয়ালের বক্তব্য, হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, অন্যদিকে হাদির হত্যায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
তারেকর দিল্লি সফর প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্য, এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সোমবার সাক্ষাতের পর ভারতীয় হাইকমিশনার দিল্লি গিয়েছেন। শেষ মুহুর্তে আগামী সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রসংঘ সম্মেলনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের আগে প্রধানমন্ত্রী দিল্লি সফরে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। অর্থাৎ তারেকের প্রথম সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।
তারেক রহমানের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘রিঅ্যালাইন’ করতে হবে। ভৌগোলিক কারণে প্রতিবেশী পালটানো সম্ভব নয়। ফলে আমাদের সম্পর্ককে রিঅ্যালাইন করতে হবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক থাকবে, তবে তা হতে হবে দুই স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার ভিত্তিতে।