ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন সংশোধনী বিল পাশ করানো নিয়ে অহেতুক তাড়াহুড়ো নয়। বিরোধীদের প্রবল আপত্তি এবং আন্তর্জাতিক মহলে একাধিক দেশ বিলটি নিয়ে প্রবল আপত্তি জানিয়েছে। আপত্তি জানিয়েছে একাধিক ধর্মীয় সংগঠনও। সূত্রের খবর, সব দিক বিবেচনা করে পাশ করানোর মতো যথেষ্ট সংখ্যাবল থাকলেও বিদেশি অনুদান আইন সংশোধনী বিলটিকে যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠাতে রাজি মোদি সরকার। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে এমনটাই দাবি।
এ বছর ২৫ মার্চ সংসদে বিলটি পেশ হলেও সেটি নিয়ে এখনও কোনওরকম আলোচনা হয়নি। আসলে বিলটি সংসদে পেশ হওয়ার পর থেকেই সেটির কয়েকটি ধারা নিয়ে জোরালো আপত্তি তুলেছে বিরোধী দলগুলি। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও সংস্থা বা ব্যক্তি যদি বিদেশি অনুদান গ্রহণের অনুমতি (লাইসেন্স) হারায়, তবে তাদের তৈরি সম্পত্তি– স্কুল, হাসপাতাল কিংবা উপাসনালয় একটি নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে চলে যেতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়, এই প্রক্রিয়াটি হবে প্রায় স্বয়ংক্রিয়, কোনও বিচারকের পর্যালোচনা ছাড়াই। সেটিই বিরোধীদের মূল আপত্তির জায়গা।
কেন্দ্রের অবশ্য বক্তব্য, দেশের স্বার্থেই এই বিল আনা হয়েছে যাতে বিদেশি অর্থ ভারতে জঙ্গি তৎপরতা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে ব্যবহার করা না যায়; জনকল্যাণে বিদেশি অর্থ পেতে সরকার কোনও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে না। আগামী দু’দিনের মধ্যে সংসদে বিলটি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এমনকী খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিলটি নিয়ে বিবৃতি দিতে পারেন বলে খবর। বিগত কয়েকদিন ধরে লাগাতার ক্যাথলিক চার্চ থেকে শুরু করে এর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন অংশীদারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি। সব ধর্মীয় সংস্থাকে বোঝানো হয়েছে, এই বিলে আপত্তির কিছু নেই। আমেরিকা এবং জার্মানি-সহ যে সব দেশ থেকে এই বিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল, তাঁদেরও জবাব দিয়েছে নয়াদিল্লি।
তবে শেষমেশ শোনা যাচ্ছে, বাদল অধিবেশনে এটি পাশ করানোর জন্য তাড়াহুড়ো করবে না সরকার। বিরোধীরা চাইছিল, পুরোপুরি বিলটি প্রত্যাহার করা হোক। কিন্তু সে পথে না হেঁটে মোদি সরকার একটি যৌথ সংসদীয় কমিটি গড়ে, সেখানে বিলটিকে আরও আলোচনার জন্য পাঠাতে পারে। সূত্রের খবর, কংগ্রেস এবং তৃণমূলের মতো দু’একটি বিরোধী দল ছাড়া অধিকাংশ দলই সে প্রস্তাবে রাজিও হয়ে যেতে পারে।