কেটে বসানো বা স্ট্যাম্প নয়! স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ফুলিয়ায় তাঁতের বুননে তৈরি জাতীয় পতাকা
প্রতিদিন | ১২ আগস্ট ২০২৬
১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁতের বুননে এবার তৈরি হচ্ছে জাতীয় পতাকা। কাপড়ে নকশা এঁকে, কেটে-সেলাই করে বা অশোকচক্র স্ট্যাম্পিং করে নয়, সরাসরি তাঁতে বুননের মাধ্যমেই তৈরি করা হচ্ছে পতাকা। ফুলিয়ার তাঁতশিল্পীদের এই উদ্যোগে জাতীয় পতাকার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে বাংলার নিজস্ব তাঁতশিল্পের ঐতিহ্য।
রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত তাঁতশিল্পী অভিনব বসাক এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ডিজাইনার মন্টু বসাকের যৌথ উদ্যোগে ‘উইভার সার্ভিস সেন্টার’-এর সহযোগিতায় এই কাজ চলছে। পতাকা তৈরির দায়িত্বে রয়েছে টাঙ্গাইল তন্তুবায় সমবায় সমিতি। উদ্যোক্তাদের দাবি, সম্পূর্ণ ১০০ শতাংশ সুতি ৯২ কাউন্টের সুতো ব্যবহার করে পতাকা তৈরি করা হচ্ছে। হ্যান্ডলুমের ‘কাট-শাটল’ পদ্ধতিতে কাপড় বোনার সময়ই অশোকচক্র ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। অর্থাৎ পরে কোনও ধরনের স্ট্যাম্পিং বা আলাদা করে অশোকচক্র বসানোর প্রয়োজন হচ্ছে না। জাতীয় পতাকার নির্দিষ্ট ২:৩ অনুপাত বজায় রেখে ২১ ইঞ্চি মাপের ভিত্তিতে এই পতাকা তৈরি করা হচ্ছে।
তাত শিল্পী বীরেন বসাক বলেন, “এটা আমাদের কাছে গর্বের। এত দিন শাড়ি তৈরি করতাম। এখন দেশের জাতীয় পতাকা তৈরি করছি।” তিনি জানান, প্রতিটি পতাকা তৈরি করতে কমবেশি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা সময় লাগে। তাঁরা মোট ১৫টি পতাকা তৈরি করছেন। তার মধ্যে ১৩টি পতাকা তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
অভিনব বসাক জানান, স্বদেশি ভাবনা এবং বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ভারতীয় জাতীয় পতাকার চেয়ে গর্বের আর কিছু হতে পারে না। সেই পতাকাকেই বাংলার তাঁতের সুতো দিয়ে তৈরি করা তাঁদের কাছে এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। স্বাধীনতা দিবসে তৈরি করা এই বিশেষ জাতীয় পতাকার কয়েকটি উড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ‘উইভার সার্ভিস সেন্টর’-এর মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং সম্ভব হলে কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের কাছেও এই বিশেষ শিল্পকর্ম পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পতাকা তৈরির এই অভিনব পদ্ধতির মাধ্যমে একদিকে যেমন স্বাধীনতা দিবসের আবেগকে তুলে ধরা হচ্ছে, তেমনই বাংলার তাঁতশিল্পের দক্ষতা ও ঐতিহ্যকেও সামনে আনার চেষ্টা করছেন ফুলিয়ার তাঁতশিল্পীরা।